Sharing is caring!

নাচোলে জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার সম্পদ নিয়ে

দ্বন্দ্ব চরমে : অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা

♦ অলিউল হক ডলার, নাচোল 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল সদর ইউনিয়নের পীরপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ ও ফুরকানিয়া মাদ্রাসার অর্থ-সম্পদ নিয়ে দু’গ্রæপের মধ্যে দ্ব›দ্ব চরমে উঠেছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ অপ্রীতিকর ঘটনা। আইনশৃক্সখলা বাহীনিসহ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাচোল ইউনিয়েনের ৭নং ওয়ার্ডের পীরপুর দক্ষিণপাড়ার জামে মসজিদ প্রায় শতবছরে পুরোনো। আর এই মসজিদ বিভিন্ন ব্যক্তিরা রক্ষণাবেক্ষন ও উন্নয়ন সংস্কারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন সময়ের সভাপতি আব্দুল আজিজ এর শশুর করিম মন্ডল মারা যাওয়ার পর মৃত আব্দুল আজিজ এর ছেলে তোফাজ্জুল হক দায়িত্বভার গ্রহন করেন। বিভিন্ন সময়ে ওই মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে দানশীল ব্যক্তিরা প্রায় ২৩বিঘা জমি দান করেন। জমির ফসল ও অন্যান্য দানের টাকা দিয়ে অত্র মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। সেখান ইমাম, মোয়াজ্জিনের বেতন ও সংস্কার ব্যয় করা হয়। এতে করে দেখা যায় তাদের সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি এই পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকায় দেখা দেয় স্বেচ্ছারিতা। বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড একক ক্ষমতা বলে মনগড়াভাবে পরিচালনা করতে থাকেন। ওই অঞ্চলে তারা ৩ভাই প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ জনগণ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। জানা গেছে, বড় ভাই তোফাজ্জুল হক বিএনপি সমর্থিত, মেজ ভাই হাফিজুল হক জাপা ও ছোট ভাই কাওসার আলী আওয়ামীলীগ সমর্থক। তাই যখন যে সরকার আসে তখন সেই ভাইকে সুবিধা আদায়ের লক্ষে দায়িত্ব প্রদান করেন। ক্ষমতার পালা বদলে ভাইদের কমিটি থেকে বদল করে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। কমিটির সদস্যরা ও এলাকাবাসী হিসাব নিকাশ চাইলে তোফাজ্জুল হক এর ছোট ভাই ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাওসার আলীকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাওসার আলীও তার বড় ভাই তোফাজ্জুল হকের পথ অনুসরন করে দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীদের হিসাব নিকাশ সঠিকভাবে না দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে কমিটি গঠন করেন। এতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এরশাদ আলীকে সভাপতি ও জমসেদ আলী রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট গঠন করেন মসজিদের পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী। নবগঠিত কমিটির সদস্যরা ইউএনও’র কাছে আবেদনের সূত্র অনুযায়ী, জমির ফসল, পুকুরের মাছ বিক্রি, মুষ্ঠির চাউল, মসজিদের কোটার টাকা ও দানের টাকাসহ বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ১৬ লক্ষ ৫৫হাজার টাকা ও ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ১৯লক্ষ ৪২ হাজার ৮শ টাকা, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ১৫লক্ষ ১১হাজার ৬শ টাকা, ২০০৩সাল থেকে ২০১১সাল পর্যন্ত ৩৩লক্ষ ৬৩হাজার ৮শ, ৫০টাকা, ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৪১লক্ষ ১৩হাজার ৯শ টাকা। এতে করে ৩২বছরে আয় ১কোটি ৩০লক্ষ ৮৭হাজার ১শ ৫০টাকা। এছাড়া মসজিদের জমি বিক্রি বাবদ ৮লক্ষ ৫০হাজার, মসজিদের টিন বিক্রি বাবদ ৪ লক্ষ টাকা, আদায়কৃত ধান থেকে ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। সর্বমোট আয় দেখানো হয়েছে, ১কোটি ৪৫লক্ষ ৬২হাজার ১’শ ৫০টাকা। এর মধ্যে কাচা মসজিদের নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। সর্বমোট ১কোটি ৪১লক্ষ ৬২হাজার ১শ ৫০টাকা উদ্বৃৃত্ত দেখানো হয়েছে। নতুন কমিটি সভাপতি এরশাদ আলী গত ১৫জুলাই নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিপক্ষ তোফাজ্জল হক ও কাওসার মাহমুদ আগামী ২৪.০৭.২০১৯ইং তারিখ সকাল ১০টায় ইউএনও’র কার্যালয়ে শুনানি গ্রহনের নোটিশ জারি করেন। অন্যদিকে, গত ১৮জুলাই সন্ধ্যায় মাইকিং করে কাওসার মাহমুদ মসজিদের জমি বাৎসরিক মেয়াদে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে লিজ প্রদান করে। পরের দিন লীজ গ্রহীতারা জমি চাষাবাদ করতে গেলে নতুন কমিটি ও এলাকাবাসী বাধা প্রদান করলে তাদের মাঝে উত্তেজনা ও কথাকাটাকাটি হয়। এতে করে ওই অঞ্চলে যে কোন মুহুর্তে মসজিদ ও মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে সচেতন মহল। জরুরী ভিত্তিত্বে এর সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। এব্যাপারে কাওসার মাহমুদ সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরশাদ আলী মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির কেউ নন। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার কারনে সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মনগড়া অভিযোগ করেছেন। এরশাদ আলী সংগে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা হিসাব নিকাশ ও জনগণের মতামতের তোক্কা না করার কারনে এলাকাবাসী সর্বসম্মতভাবে আমাকে সভাপতি করে। আর তাদের প্রতিনিধি হিসাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট হিসাব বুঝিয়ে নেওয়ার আবেদন করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি বলেন, নাচোলের পীরপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ ও ফুরকানিয়া মাদ্রাসার অর্থ-সম্পদ নিয়ে হিসাব-নিকাশের আবেদন পেয়েছি। আগামী ২৪ জুলাই এর পরিবর্তে ২৫ জুলাই সকাল ১০টায় উভয় পক্ষকে সাক্ষি প্রমানাদিসহ ইউএনও অফিসে শুনানি গ্রহনের জন্য নোটিশ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *