Sharing is caring!

জোহরুল ইসলাম, নাচোল থেকে \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেও এমপিওভুক্ত হয়নি ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে, মানববেতর জীবন-যাপন করছেন ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ শতাধিক শিক্ষক- কর্মচারী। জানা যায়, স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ আর্থীক সহায়তায় সরকারী নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন শাপেক্ষ ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। দশ থেকে ১৫ বছর যাবৎ বিনা পারিশ্রমিকে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শি¶ক-কর্মচারীগণ। তাঁরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও অর্থ ব্যয় করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে শিক্ষক এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় বিয়ে পর্যন্ত করতে পারছেন না। আবার কেউ বিয়ে করতে চাইলেও, তাদের সাথে কণ্যার বিয়ে দিয়ে ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেন না অভিভাবকরা। এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের অনুভুতি জানতে চাইলে, নাচোল সাত বীরশ্রেষ্ঠ (আনক) টিবিএম কলেজের প্রভাষক আশিক মাহমুদ জানান, দীর্ঘসময় ধরে সফলতার সাথে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। সর্বশেষ ২০১০ সালে নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠানের সব সূচক ভাল থাকায় প্রথম তালিকায় এমপিওভুক্ত করা হয় এবং আমরা বিধি মোতাবেক ব্যাংক হিসাব খুলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্র জমা দেয়। কিন্তু ওই তালিকায় এমপি-মন্ত্রিদের পছন্দের অনেক প্রতিষ্ঠান না থাকায় নজিরবিহীনভাবে প্রজ্ঞাপন জারীর পর তালিকা স্থগীত করে, পরে অজ্ঞাত কারণে অন্যায়ভাবে আমাদের কলেজটি তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। অথচ আমাদের কলেজটি প্রতি বছর নাচোল উপজেলায় এইচএসসি’র ফলাফলে ঈর্ষনীয় ফলাফল অব্যহত রেখেছে। এরপরেও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায়, আমরা দারুন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলালউদ্দিন খান জানান, নাচোল উপজেলায় এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চারশতাধীক শিক্ষক-কর্মচারী। এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) ভুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলি হচ্ছে- নাচোল সাত বীরশ্রেষ্ঠ (আনক) টিবিএম কলেজ, গোলাবাড়ী আদর্শ কলেজ, নাচোল ডিগ্রী কলেজ ও নাচোল মহিলা ডিগ্রী কলেজের স্নাতক পর্যায়, বর্দ্ধায় চন্ডীপুর আলীম মাদ্রাসার আলীম স্তর, নাচোল বিএম মাদ্রাসার ফাজিল স্তর, গোলাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক স্তর, রাজবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা, শানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখা, বরেন্দ্র দোগাছী স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ স্তর, পীরপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খিকটা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মল্লি¬কপুর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কসবা উজিরপুর (দরগা) নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুসলিমপুর জুনিয়র গার্লস একাডেমী, কালইর দাখিল মাদ্রাসা, আলিশাপুর দাখিল মাদ্রাসা, বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসা’র ভোকেশনাল স্তর, মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা, বেনীপুর দাখিল মাদ্রাসা ও নাচোল কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ। সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরও বলেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সফলতার সাথে মানসম্মত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সত্যি মানববেতর জীবন-যাপন করছেন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *