Sharing is caring!

নাচোলে দোকানদারকে গরম তেলে পুড়িয়েছে

বখাটে আজিম : অবস্থা আশংকাজনক

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ডালপুরি বাকি না দেয়ায় দোকানীর গরম তেলে পুরো শরীর পুড়িয়েছে এলাকার বখাটে আজিমসহ সঙ্গীরা। সামান্য বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি ও মারধরের পরও গরম তেল ঢাললে ঝলসে যায় রুবেলের শরীর। নাচোল থানার মিরকাডাঙ্গা স্কুলের পাশে খাবার ও চায়ের ষ্টলের মালিক স্থানীয় তাজামুল হকের ছেলে রুবেল বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের ২৯নং ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় মামলা হলেও মুল আসামী আজিম এখনও গ্রেফতার হয়নি। রুবেলের পিতা তাজামুল হকের করা মামলায় অভিযুক্ত আরও ২ আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ, তবে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও নানাভাবে হুমকী দিচ্ছে আসামীরা বলে রুবেলের পরিবারের অভিযোগ। সরেজমিনে জানা যায়, নাচোল থানার মিরকাডাঙ্গা স্কুলের পাশে তাজামুল হকের ছেলে রুবেলের খাবার ও চায়ের ষ্টল রয়েছে। গত ২৭ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রুবেল তাঁর নিজ দোকানে গরম তেলে ডালপুড়ি ভাজছিলো। এসময় একই এলাকার লাল মোহাম্মাদের ছেলে আজিম (২৭) রুবেলের কাছে বাকিতে ডালপুরি চায়। রুবেল আজিমের কাছে পূর্বের ২৭ টাকা বাকি থাকায় আবারও বাকিতে ডালপুরি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজিম ক্ষীপ্ত হয়ে আজিমের বাবা লালমোহাম্মদ ও চাচাত ভাই ডালিমকে সাথে নিয়ে রুবেলকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। সেই সাথে, আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করে। তাতেও ব্যন্ত না হয়ে পাশে থাকা, ডালপুড়ি ভাজা গরম তেল রুবেলের গায়ে ঢেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুরো শরীর গরম তেলে পুড়ে ঝলসে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটপট করতে থাকে। এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা রুবেলের দাদী শেফালী বেগম বলেন, অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করেও পাষন্ডরা থামেনি, আমার নাতি নিরীহ বলে পাষন্ড আজিম গরম ডালপুড়ি ভাজা তেল রুবেলের গায়ে ঢেলে দেয়। রুবেল হাউমাউ করে চিৎকার করতে থাকলে এলাকাবাসী ছুটে আসে, তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হয়। রুবেল রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। এঘটনায় পরের দিন ২৮ জুন রুবেলের বাবা তাজামুল হক বাদি হয়ে নাচোল থানায় অভিযোগ করে। শনিবার সকালে অভিযুক্ত আসামি আহসান হাবিব ও ডালিমকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। তবে মূল আসামি আজিমকে ধরতে পারেনি পুলিশ। নাচোল থানার এস.আই আঃ রউফ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে রুবেলকে গরম তেলে পোড়ানোর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হই। মূল আসামী আজিম পালিয়ে গেলেও সহযোগী আহসান হাবিব ও ডালিমকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করি। পরে তারা জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে। মঙ্গলবার সকালে এব্যাপারে জানতে চাইলে নাচোল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মিন্টু রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গরম তেল দিয়ে দোকানী রুবেলের শরীর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় প্রধান আসামী আজিমকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এঘটনায় জড়িত থাকা অপর ২জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পরে জামিনে বেরিয়ে আসে ২ আসামী আহসান হাবিব ও ডালিম।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *