Sharing is caring!

আমন ধান কাটা শুরু

নাচোলে ধানের মূল্য কম \ কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ছেদ

♦ নাচোল থেকে সাকিল রেজা 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলের বরেন্দ্র ভূমির কৃষক আমন ধান কেটে বাড়িতে উঠালেও ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে কম হওয়ায় কৃষকের সোনালী স্বপ্নে যেন ছেদ পড়েছে। অনেকটায় ভেস্তে যাচ্ছে কৃষকের আশা-আকাংখা। ধান উৎপাদনে খরচের তুলনায় বর্তমান বাজারমূল্য ধান বিক্রি করায় কৃষকরা দিশেহারা। জমিতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য সামগ্রী ঋণ করে চাষ করারয় মহাজনেরা কয়েক দিনের মধ্যেই পাওনা আদায়ের জন্য (মৌসুমী হালখাতার) চিঠি দেবেন ব্যবসায়ীরা। ১ ডিসেম্বর রবিবার নাচোল বাজারে নতুন আমন ধানের মূল্য ৬ শ’২০ টাকা মন দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সূর্য্যপুর গ্রামের কৃষক হাঁকরইল গ্রামের কৃষক সেকান্দার আলী, আলী আকবর ও একরামুল হক, রাজবাড়ীহাট এলাকার মেঘনাধ ওরাও, আন্ধরাইল গ্রামের কৃষক নাজিমুদ্দিন, সোনামসনার গ্রামের কফিল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান, কালইর গ্রামের শিক্ষক নাজিম আল মামুন, মাক্তাপুর গ্রামের মতিউর রহমান খোকন, বহরইল দিঘিপাড়া গ্রামের খুরসেদ আলী ও স্বপন আলীসহ অনেক কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে আমন আবাদে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এবছর বিঘা প্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৪-১৬ মন ধান। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬শ’ ২০ টাকা মন দরে ৮ হাজার ৬শ’৮০ টাকা বা উর্ধ্বে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু বর্গা জমিতে আবাদ করলে জমির মালিককে দিতে হবে ৪মন, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরী ৪ মন, ধান উঠানো গাড়িভাড়া ও মাড়াই খরচ ১ মন। মোট ৯ মন ধান খরচ হয়। বিঘা প্রতি আবাদ খরচ সার, বিষ, কীটনাশক, নিড়ানী ও শ্রমিক মূল্য মিলিয়ে (৫ হাজার, ৫শ’ ৮০টাকা ও উৎপাদন খরচ ৭ হাজার ৪শ’ টাকা) মোট ১২ হাজার, ৯শ’ ৮০টাকা। বিঘা প্রতি মোট উৎপাদিত ১৪/১৬ মন ধান থেকে ৫/৭ মন ধান উৎপাদন খরচ হলে কৃষকের প্রতি বিঘা কৃষকের থাকে ৯ মন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫ হাজার ৫শ’৮০টাকা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষককে বিঘা প্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। তাই কৃষক যে সোনালী স্বপ্ন নিয়ে আবাদ করেছে, সে স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২২হাজার, ৫শ’ ৭৮ হেক্টর, অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৬ লাখ, ৩ হাজার, ৬শ’ ১১ মেঃ টন। তবে এবছর ধান পাকা অবস্থায় মৌসুমী বৃষ্টি পাতের কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে। একদিকে, সরকার কৃষকদেরকে ভর্তুকী দিয়ে সার, বীজ কীটনাশক ও সেচ খরচ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ধানের বর্তমান বাজার দরে কৃষকরা হতাশ। আবার লটারীর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা মন দরে আমন ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কৃষকরা মোটেই সুখি বা খুশি নয় এটাই বাস্তবতা। এমনটায় বলছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *