Sharing is caring!

pouro-nirbachonমোঃ হাসানুজ্জামান ডালিম, নাচোল থেকে \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাদ্য ভান্ডার খ্যাত বরেন্দ্র ভূমি নাচোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে পৌর এলাকা। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে প্রতিটি ওয়ার্ড। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ চাঙ্গা হলেও এখন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিস লক্ষ্য করা গেছে নেতাকর্মীদের ভিড়। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নেতারা না থাকায় অফিসে এখনো ঝুলছে তালা। যদিও গত দুই বছর যাবতই বিএনপি অফিস প্রায়শই বন্ধ দেখা গেছে। জানা গেছে, বিএনপির নিষ্ক্রিয়তার পেছনে রয়েছে মনোনয়ন জটিলতা। নাচোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে দু’জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। একজন হলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক প্রতিষ্ঠাতা পৌর প্রশাসক এম কামরুজ্জামান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কামাল। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপি গত ২৯ নভেম্বর নাচোল থেকে ২৫ কিঃমিঃ দুরে গোদাগাড়ী উপজেলার সাফিনা পার্কে ভোটাভোটির আয়োজন করে। এতে দলীয় ৩০ জন ভোটারের মধ্যে নুর কামাল ১৬ ভোট পেয়ে মেয়র প্রার্থীর জন্য মনোনীত হন। অন্যদিকে এম কামরুজ্জামান ভোটে অংশ না নিলেও তিনি ১৪ ভোট পান। বিএনপির একটি দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জনমত জরিপে কামরুজ্জামান এগিয়ে থাকায় তিনি ভোটে অংশ গ্রহন করেননি। আর এজন্য আগে থেকেই তিনি কেন্দ্র থেকে তার মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য জোর লবিং শুরু করেছিলেন। জানা গেছে, এবার কামরুজ্জামানের পক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটি তৎপর ছিলেন। অন্যদিকে নুর কামালের পক্ষে তদবির চালাচ্ছিলেন বিএনপির এ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম। সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর রাতে এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হন এবং বিএনপি থেকে দলীয়ভাবে তার মনোনয়ন দাখিল করেন। জানা গেছে, শুধুমাত্র উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম মজিদুল হক ছাড়া কামরুজ্জামানের মনোনয়ন অন্য পক্ষ মেনে নিতে না পারায় দল হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে এখনো চাঙ্গা হতে পারছে না বিএনপি। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নেতারা না থাকায় কামরুজ্জামান একাই নির্বাচনী প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। আর অফিসেও ঝুলছে তালা। এ ব্যাপারে বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী নুর কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে রাজী হননি। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইনুল হক’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় দলীয় মতামতের বাইরে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে যেহেতু কামরুজ্জামান দলীয় ভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন, তাই বিএনপির মধ্যে এমন দ্বন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়টি নিস্পত্তি হলেই দলীয় সার্থে তারা কাজ করবেন বলে জানান। তবে বিএনপির মতো আওয়ামীলীগে একই ঘটনা ঘটলেও তারা ভেদাভেদ ভুলে নাচোল পৌরসভার মেয়র পদটি পেতে কোমর বেধে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিস এখন দিন-রাত সরগরম থাকছে নেতাকর্মীদের ভিড়ে। মেয়র প্রার্থী আবদুর রশিদ খাঁন ঝালুর প্রচারে এখানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ও নাচোল যুবলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে দলীয় অফিসে। কিছুদিন আগেও অন্তর্দ্বদ্বর কারণে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে নাচোল পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম ঝাইটন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন স্থানীয়ভাবে আমাকে মনোনিত করলেও কেন্দ্রীয় কমিটি যেহেতু ঝালু ভাইকে মনোনীত করেছেন সেহেতু আমি তার হয়ে কাজ করবো। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ থাকলেও এ পৌর নির্বাচনে সকলে দলের হয়ে একসাথে কাজ করব।  পৌরবাসী অনেকেই জানিয়েছেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো দলীয়ভাবে চাঙ্গা হতে না পারে তবে জয় থেকে তারা ছিটকে পড়তে পারে। আর দলগতভাবে বিএনপি চাঙ্গা হতে পারলে নাচোল পৌরসভা নির্বাচনে এই দুই দলের মধ্যেই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *