Sharing is caring!

শাকিল রেজা, নাচোল \ আমার শরীর দিয়ে পঁচা দূর্গন্ধ বের হয় কেন? আমার শরীরের এত বড় বড় লোম কেন? আমি কি খুব পঁচা?-সন্তানের এমন সব কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন ৪ বছরের শিশু সিজানের মা শিরিন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নামো শীংরইল গ্রামের ৪ বছরের ছেলে শিশু সিজান। ছোট্ট একটা জন্মদাগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও সে জন্মদাগ যে পরবর্তীতে কাল হয়ে দাঁড়াবে এ কথা বুঝে উঠতে পারেনী সিজানের পরিবার। জন্মের সময় পিঠের ছোট্ট লোমশ দাগটাকে তেমনটা গুরুত্ব না দিলেও বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই দাগ আরও বড় হতে থাকে। ছেয়ে যেতে থাকে পিঠের অনেকটা অংশ, এমনকি মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা। সাথে তৈরি হয় ঘা ও পচা দুর্গন্ধ। উপায়ান্তর না পেয়ে পরিবার ২মাস ১০দিন বয়সে সিজানকে নিয়ে ১ম ছুটে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ইউনিটে। ব্যাকট্রোসিন নামক একটি মলম লাগানোর সাজেস্ট করেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। সেটাই আজ অবধি সিজানের ক্ষত দূরীকরণের একমাত্র ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করছেন সামর্থ্যহীন সিজানের পরিবার। এখনও মাঝে মাঝে সিজানের অবস্থা কিছুটা সংকটাপন্ন হলে বাবা-মা ছুটে যান সেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায়। এভাবেই বছরের পর বছর চলতে থাকে পেশায় টিনমিস্ত্রি বাবা টুলু মন্ডলের ৪ সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে সিজানের চিকিৎসা। সিজানের এ অবস্থা নিয়ে রীতিমত শংকিত তার পরিবার ও এলাকাবাসী। সিংরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও প্রতিবেশি হাওয়া খাতুন জানান, বাচ্চাটাকে দেখলে খুব মায়া লাগে। গায়ে ক্ষত ও পচা দূর্গন্ধ তার জীবন চলার পথকে রুদ্ধ করছে। অথচ পরিবারের সাধ্য নেই তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার। সিজানের চিকিৎসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবান লোকদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন। সারাবছর চাঞ্চল্যতায় ছুটে বেড়ানো সিজান বছরের একটা বড় অংশ জুড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে। বিশেষ করে শীতের সমং আর দশটা স্বাভাবিক বাচ্চার মত তার জীবনটা চলে না। ক্ষত ও দূর্গন্ধের কারনে তাকে চার দেয়ালের মাঝে অজানা শঙ্কায় আটকে রাখার চেষ্টা করেন পরিবার। কিন্তু দুরন্ত সিজানকে আটকে রাখার সাধ্য কার! তার বয়স তো ছুটে বেড়ানোর, বাধা ডিঙ্গানোর। তাইতো চুপ করে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে কখনও খেলার সাথীদের(খেলতে না নিলেও) কাছে আবার কখনও বাড়ির সামনের পুকুরে ঝাঁপ দেয় সিজান। কিন্তু এমন ঘা, ক্ষত ও দুর্গন্ধ নিয়ে আর কতদিন চলতে পারে সিজানের জীবন? সমস্যা বাড়ার সাথে সাথে তার বন্ধুরাও তাকে ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর টুুলু মন্ডলের পক্ষে এমন বিরল রোগের চিকিৎসা বা মোকাবেলা করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য কোনটাই নেই। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নাচোল ইংলিশ লারনার্স সোসাইটি পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে সিজানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *