Sharing is caring!

নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলে বিরল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারে সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যা তাসফিয়া জাহান মুনিরাকে বাঁচাতে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস একটি অনুদানের চেক প্রদান করেছেন। রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ইউএনও সাবিহা সুলতানা তাসফিয়া জাহান মুনিরার বাবার হাতে এ চেক তুলে দেন। এসময় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আল গালিব, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।
তাসফিয়ার পিতা দিন মজুর মাসুদুজ্জামান মামুন, বাড়ি নাচোল বনবিভাগের পাশে গোডাউন পাড়া। শিশু তাসফিয়া জন্মের পর থেকেই তার সর্ব শরীর লম্বা লম্বা পশমে আবৃত। দিন যতই গড়াচ্ছে পশমগুলিও বাড়তে বাড়তে পশুর মতো দেখা যাচ্ছে। শিশু তাসফিয়ার শরীরের পিঠের ছোট্ট একটি টিউমার থেকে এটির উৎপত্তি বলে তাসফিয়ার মা তানজিলা খাতুন জানান। তবে তাসফিয়ার বয়স যখন ৬দিন তখন তার পরিবার তাসফিয়ার এ সমস্যাটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিষয়টি অবহিত করলে চিকিৎসকরা একটি বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি বিরল প্রকৃতির চর্ম রোগ বলে সনাক্ত করেন।
চিকিৎসকরা শিশু তাসফিয়ার বয়স ৩/৪ বছর বয়স হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তবে বর্তমানে সাড়ে তিন বছেরের তাসফিয়ার সমস্ত শরীর পশুর মত লোমে ভরে গেছে। এমনকি মুখের উপর, তালুতে কালসিটে দাগও ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটির মা তানজিলা খাতুন জনান, গরমের দিনে শিশুর শরির থেকে আগুনের মত তাপ বের হতে থাকে। দিনে ২/৩ বার গোসল করাতে হয়। ভিজে কাপড় পরিয়ে দিনরাত ফ্যানের নীচে রাখতে হয় এবং বিদ্যুৎ না থাকলে হাত পাখার বাতাস করতে হয়। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় বর্তমানে হোমিও চিকিৎসা করাচ্ছেন। তার পিতা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সরকারি ভাবে এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগীতা পেলে তিনি ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন তাসফিয়ার। তাসফিয়ার এ প্রতিবেদনটি বেসরকারি বেশকটি টেলিভিশন, “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’সহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর ফলে ব্যক্তিগত, সরকারি বে-সরকারি ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু তাসফিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *