Sharing is caring!


নাচোল প্রতিনিধি \ জেলার নাচোলে ভিজিএফ এর গম হত দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে বিতরণের সময় ওজনে কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের সামনেই ৩ নারী-পুরুষকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে ওই ইউপি’র দুই সদস্য (মেম্বার)। জানা গেছে, গত ২৫ জুন সকাল ৮টার দিকে ৩ নং নাচোল ইউপি কার্যালয়ের রাস্তা বন্ধ থাকায় ভিজিএফ এর গম নাসিরাবাদ দুলাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতরণকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষ দর্শী ও আহতরা জানায়, উপজেলার নাচোল ইউপির হাঁকরইল গ্রামের মৃত মেশের আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৭৪), মৃত সাজ্জাদ আলীর স্ত্রী গোলজান বেওয়া (৬১) ও আব্দুস সালামের নাতনী সোনীয়া (১৪)কে ১৩ কেজি ২’শ ৭০ গ্রাম গমের পরিবর্তে বালতিতে করে গম দেয়ার সময় ওজনে কম মনে হলে তারা ইউপি চেয়ারম্যান ইনায়েতুল্লাহকে বিষয়টি জানান। তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, ‘ভিক্ষার গম যা দেয়া হয়েছে, তাই নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে’। ৩ জনই তাদের গম মিটারে মেপে দেখতে পায় আব্দুস সালামের গম ৭ কেজি ৬’শ ৩০গ্রাম, সোনিয়ার গম ৮ কেজি ৭০ গ্রাম ও গোলজান বেওয়ার গম ৭ কেজি ২’শ গ্রাম হয়। ওজনে কমের বিষয়টি আবারও চেয়াম্যানের নিকট জানাতে গেলে ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাশেম ও ৭নং ওয়ার্ড সমদ্য এরশাদ আলী প্রথমে বৃদ্ধ (প্রতিবন্ধি) আব্দুস সালামকে চৌকিদারের লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। এসময় তার নাতনি (আমরুদ্দিনের মেয়ে) সোনিয়া (১৪) এগিয়ে আসলে তাকেও লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে একই গ্রামের প্রতিবেশী গোলজান বেওয়া আব্দুস সালামকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মেম্বার আবুল কাশেম ও এরশাদ আলী তাঁকেও পিটিয়ে আহত করে। এসময় হাঁকরইল গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে আওয়াল (১৯), মাক্তাপুর গ্রামের মহবুলের ছেলে সহিদ (২২) ও ঝিকড়া গ্রামের শাহিন কবির জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই মেম্বারের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নেই। এসময় উপস্থিত জনতা দুই মেম্বারকে গণধোলাই দিয়ে নাসিরাবাদ দুলাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান ইনায়েতুল্লাহও পালিয়ে যান। জনতা আরও উত্তেজিত হলে নাচোল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইনায়েতুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মারামারির ঘটনা অ¯^ীকার করেন। থানা হাজতে আটক দ্’ুমেম্বার জানান, তাদেরকে মারা হয়নি, তবে স্কুলের সিঁড়ি থেকে নীচে নেমে যেতে বলেছি। প্রতিবন্ধি আব্দুস সালামকে হাতধরে নামাতে গিয়ে সে পড়ে গেলে লাঠি হাতে ঠৌকিদারও তাকে উঠাতে এগিয়ে আসে। ঘটনাটি ভুল বুঝাবুঝি ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিন্তু উপস্থিত অধিকাংশ নারী-পুরুষ জানান, প্রথম অপরাধ চেয়ারম্যানের। তাঁর উপস্থিতে গম কম দেয়া হয়েছে, আবার ভিক্ষার গম না নিলে চলে যেতে বলেন। দ্বিতীয়তঃ দুই মেম্বার যেভাবে ৩ জনকে চৌকিদারের দাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, ধরাপড়া চোরকেও এমন করে মারেনা। ভিজিএফ এর গম বিতরণকালে ওজনে কম দেয়ায় প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান-মেম্বার হতদরিদ্র নারি-পুরুষদের পিটিয়ে আহত করার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার(ভূমি) পাপিয়া সুলতানা জানান, আহতদের অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত মেম্বার-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আটক ২ ইউপি সদস্যের আত্মীয়-¯^জনরা প্রভাবশালী এক নেতার তদ্বিরে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে দন্ডবিধির ১৫১ ধারায় জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে বলে আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এব্যাপারে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ ফাছির উদ্দিন জানান, ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না পেয়ে আটক ইউপি সদস্যদেরকে ১৫১ ধারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *