Sharing is caring!

নাচোলে ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত জমি ৩০ বছর ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে

♦ নাচোল প্রতিনিধি 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৩০ বছর পূর্বে ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া ৩০ বিঘা খাস জমি দখল দিচ্ছেনা ২ ভূমিদস্যু। ভূমি দস্যুরা বন্দোবস্তের দলিল আটকিয়ে রেখে বিভিন্ন হুমকী দিচ্ছে ওই ভূমিহীনদের, ফলে তারা জমি বন্দোবস্ত পেয়েও দখল নিতে পারছেনা। ভূমি দস্যুরা হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঝিকড়া গ্রামের মৃত রাব্বুল শেখের ছেলে আব্দুল আখের(৪০) ও আব্দুর রহিম (৫৫)। প্রতিকার চেয়ে এ-পর্যন্ত ঝিকড়া এলাকার ৯জন ভূমিহীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন। নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা ভূমিদস্যুদের আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিৎ করে জানান, শিঘ্রই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝিকড়া মৌজার প্রায় ৩০ বিঘা সরকারী খাস জমি সরকার ১৯৯০ সালে এলাকার ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বন্দোবস্ত প্রদান করেন। বন্দেবস্তের পর কিছু সংখ্যক ভূমিহীন পরিবার আংশিক জমি বুঝিয়ে পেয়েছেন। কিন্তু একই এলাকার ভূমিদস্যু ঝিকড়া গ্রামের মৃত রাব্বুল শেখের ছেলে আব্দুল আখের ও আব্দুর রহিম ভূমিহীনদের জমির খাজনার চেক কেটে দেওয়ার নাম করে মূল দলিল আটকিয়ে রেখেছেন বলে ভূমিহীনরা অভিযোগ করেন। ভূমি দস্যু আব্দুল আখের ও আব্দুর রহিম বর্তমানে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামের নিকটতম আত্নীয়। আর এ জন্য ভূমিদস্যুরা ভূমিহীন পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিয়ে বলছেন, জমি নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে জমির কবুলিয়ত বাতিল করে দেয়া হবে। নামো ঝিকড়া গ্রামের মৃত আয়েশ উদ্দিনের স্ত্রী ভূমিহীন নুরফা বেগম অভিযোগ করে জানান, তার নামে পাওয়া বন্দোবস্তকৃত জমি ভূমি দস্যুরা টাকার বিনিময়ে ওই জমিতে অন্যকে বাড়িও তৈরী করে দিয়েছেন। এছাড়া ৪৩১ নং দাগের ১.১০ (একর) বন্দোবস্তকৃত জমির প্রকৃত মালিক ঝিকড়া গ্রামের মৃত সৈয়ব আলীর ছেলে বরিজউদ্দিন, মৃত আদম আলীর ছেলে মোঃ ময়ান, তাহির উদ্দিন এবং ৮২ নং দাগের. ৪৩ একর জমি হাঁকরইল গ্রামের মৃত দাউদ আলীর ছেলে, মো.শফিকুল ইসলাম। কিন্তু ভূমিদস্যু আব্দুল আখের ও আব্দুর রহিম এসব জমি অন্যের নিকট রাতারাতি মৌখিক ভাবে বিক্রী করে দখলদারকে বাড়িঘর নির্মান করাচ্ছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল আখের ও আব্দুর রহিমের সাথে মূঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা এ-অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারের কবুলিয়ত প্রাপ্তরা কবুলিয়তের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূরণের আগেই শর্ত ভঙ্গ করে তারা বন্দোবস্ত জমি বিক্রী করেছেন। ফলে অনেকেই ওই জমিতে অন্য ভূমিহীনরা ঘরবাড়ি তৈরী করছে। আমরা এ কাজের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। এ বিষয়ে কবুলিয়ত প্রাপ্তরা বলেন সরকারের বন্দোবস্তকৃত জমি কোনভাবেই আমরা হস্তান্তর করি নাই, এটি সম্পূর্ন মিথ্যা কথা। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঊপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ ক্রমে সরোজমিনে তদন্তপূর্বক বিষয়টির আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *