Sharing is caring!

Nachole News Photoমো. হাসানুজ্জামান ডালিম, নাচোল থেকে \ ধানের নায্যমূল্য না পাওয়া এবং সেচ সংকটের কারণে মসুর চাষে ঝুঁকছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহাসিক তীর্থভ‚মি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে মসুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা দশ গুণ বেড়ে ৯৯০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস ও এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, নাচোল উপজেলায় কয়েক বছর ধরে অল্পবিস্তর চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবারে অনেক কৃষক মসুর চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯০ হেক্টর জমিতে মসুর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা আশাতীত বেড়ে ৯৯০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুক‚ল থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা মসুর ঘরে তোলায় ব্যস্ত দিন পার করছেন। জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে ধান উৎপাদনে প্রধান অন্তরায় সেচ সংকট। এছাড়া ধান উৎপাদনে খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা কুলিয়ে উঠতে না পারায় বিকল্প এবং লাভজনক হিসেবে মসুর চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। নাচোল সদর ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের কৃষক একরামুল হক জানান, গতবছর পরীক্ষামূলক ১০ কাঠা জমিতে তিনি মসুর আবাদ করেন। খরচ বাদ দিয়ে লাভ ভালোই হয়েছিল। তাই এবার ৪ বিঘায় মসুর চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি সাড়ে ৬ মণ করে মসুর পেয়েছেন তিনি। উপজেলার কসবা ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম ১১ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করতেন। এবার তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৩ বিঘা জমিতে মসুর চাষ করেছেন। এজন্য সবমিলিয়ে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। ৩ বিঘা জমি থেকে সব বাদ দিয়ে ১২ মণ মসুর পাবার আশা করছেন। বর্তমান কাঁচা মসুরের বাজারদর ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। আর ভালো শুকনা মসুরের দাম ৩ হাজার ৮’শ টাকারও বেশী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যেন কুমার জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা পানি সংকট। ধান উৎপাদনে প্রচুর সেচ লাগে। সে তুলনায় মসুরে সেচ লাগে না বললেই চলে। তাই কৃষি অফিস ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) যৌথভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মসুর চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা কাজে লেগেছে। তাই এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশ গুণ বেশি জমিতে মসুর চাষ হয়েছে।’ বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে ভ‚গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে উপজেলায় কম খরচে রবিশস্য চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *