Sharing is caring!

নাচোলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ছুটিপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণীর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের ছুটিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রুমি মোস্তারী। কয়েকবছর ধরেই শিক্ষক জজরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর। স্থানীয় সুত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ৪র্থ শ্রেণীর ৬ সেট প্রশ্ন গোপনে ফটোকপি করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলাম। দুপুরে ওই শিক্ষক বাড়ি গেলে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকের নজরে আসে। এসময় সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে দ্রুত ডাকা হয় বিদ্যালয়ে। তবে প্রশ্নগুলোর ফটোকপিগুলো সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলামের ব্যাগেই ছিল। তাঁর ব্যাগ থেকে প্রশ্নপত্রের ফটোকপিগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলামের দাবী প্রতিটি প্রশ্নপত্রের সেটে ১টি করে প্রশ্ন কম থাকায় তিনি ফটোকপি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি না জানিয়েই প্রশ্নপত্রের ফটোকপি করতে যাওয়ায় এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ছুটিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সহকারি শিক্ষক জজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশ্নপত্রের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে। এবিষয়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, ৪র্থ শ্রেনীর ৬ সেট প্রশ্নপত্রে ১টি করে কম থাকায় তিনি ওই দিন দুপুরে ধানসুরা বাজারে গিয়ে ১ সেট করে ফটোকপি করেছেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের অনুমতিক্রমে করা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বা অন্যান্য শিক্ষক কিছুই জানেন না। তবে তিনি প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করাটা ঠিক হয়নি বলে ভুল স্বীকার করেন। এব্যাপারে নাচোল ৫৫নং ছুটিপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রুমী মোস্তারী জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান গত ২৪ নভেম্বর নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে আসে এবং ২৭ নভেম্বর আমার কাছে সবগুলো প্রশ্নপত্র জমা দেন। প্রশ্নপত্র সঠিকভাবে রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য অফিস কক্ষে বের করে টেবিলের উপর রেখে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গেলে সহকারী শিক্ষক জজরুল ইসলাম দ্রুতই প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে প্রশ্নপত্রের সেটের সাথে রেখে চলে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক জজরুলকে ডেকে পাঠানো হয় এবং তার ব্যাগ থেকে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও মূলকপি উদ্ধার করা হয়। এবিষয়ে নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে ছুটিপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষককে কারণ দর্শনা নোটিশ করা হয়েছে তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, নাচোল ছুটিপুর আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রধান শিক্ষকসহ মাট ৫জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৪জন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *