Sharing is caring!

phoo editor new_1459258501301নাচোল থেকে জোহরুল ইসলাম \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সদ্য সমাপ্ত অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টি ইউপিতে ¶মতাসীন দল আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হয়েছে। এই ভরাডুবীর নেপথ্যের প্রধান কারণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের এর কুট কৌশল বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। নির্বাচনের পূর্বে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে আওয়ীমীলীগ দলীয় প্রার্থীদের জয়ের সম্ভবনা বেশি এমনটি দাবি সাধারন জনগনের মুখে শোভা পেলেও পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের ও সৎ যোগ্য ব্যাক্তিদের মনোনয়ন না দেওয়ায় নির্বাচনে দলটিকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু তৃনমূল নেতাদের দাবি নাচোল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবির মূল কারন হচ্ছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। তবে, এ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও আ’লীগ ১টি, ¯^তন্ত্র জামায়াত ২টিতে জয়ী হয়েছে। এদিকে, ৪নং নেজামপুর ইউপিতে সরকার দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলামের চেয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ্র বর্মন  বেশী ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে, কৌশলী জামায়াত দলীয় প্রতীক না থাকলেও সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাদের চেয়ারম্যান পদটি ধরে রেখেছে ইউনিয়ন টিতে। জানা গেছে, গত ২৩শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত সদ্য নাচোল ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩নং সদর  ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে আব্দুস ছালাম মাষ্টার ৭ হাজার ৪’শ ৮৪ ভোট এবং জামায়াত ¯^তন্ত্র ও বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ ৭ হাজার ৫’শ ৮৪ ভোট পান। এ ইউনিয়নে জামায়াত ¯^তন্ত্র প্রার্থী এনায়েতুল্লাহ ৭ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ৪নং নেজামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম ২৫২২ভোট পান।তবে সরকার দলীয় প্রার্থীর চেয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিতাই চন্দ্রবর্মন ৩৮৭০ অর্থাৎ ১ হাজার ৩৪৮ভোট বেশি পান। এই ইউনিয়ন টিতে জামায়াত ¯^তন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ৬১৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২নং ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাদির আহমেদ ভুলু ৪ হাজার ৩৬৭ভোট, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খাইরুল ইসলাম ২০৬৭ভোট পান। তবে এই ইউনিয়নটিতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইসরাইল হক ৫ হাজার ৭৩৩ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবির বিষয়ে নাচোল উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল আলম জানান, তৃণমুল ঘোষিত প্রার্থীকে উপে¶া করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরের একক সিদ্ধান্তে কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করায় দলের এ ভরাডুবি। এমনকি তৃণমুল ঘোষিত ২ জন ত্যাগি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ও মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ৪নং নেজামপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি আল শাহীদ জুয়েল জানান, তৃণমুলের মতামতকে উপে¶া করে কেন্দ্রকে ভূল বুঝিয়ে গ্রহনযোগ্য নয়, এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের এ শোচনীয় পরাজয়। ৩নং সদর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তাফা জানান, আমার এই ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের তৃনমূলের প্রার্থীকে উপে¶া করে এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন যে ব্যাক্তির সাধারন জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা খুবই কম ছিল। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের যোগফল করলে অন্ততঃ ৩টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নিশ্চিত জয় হতো। ৪নং নেজামপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের মনোনয়ন বানিজ্য করে, দলের তৃনমূল প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সুবিদাবাদী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার কারনে উপজেলার ২ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হয়েছে বলে জানান। উল্লেখ্য, নাচোল উপজেলার ১নং কসবা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮শে মে। গত ১৫ মার্চ সীমানা জটিলতা নিয়ে কসবা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর পরিপ্রে¶িতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ২৩ এপ্রিল কসবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে এ রিটের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোটের আপিল বিভাগে পিটিশন করেন আওয়ামীলীগ মনোনীত কসবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুর রহমান। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং ওইদিন বিকেলে রিট পিটিশন খারিজ করে দেন মহামান্য আদালত। রিট পিটিশন খারিজ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন আগামী ২৮ মে কসবা ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা করেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেজারুদ্দিন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *