Sharing is caring!

নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সরকারি খাস পুকুরের অবৈধ দখল নিয়ে লঙ্কা কাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের পিটুনিতে নারী-পুরুষ আহত হবার অভিযোগ করেছেন বৈধ লীজ গ্রহিতারা। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার কসবা ইউপির অঝৈর গ্রামের একই মৌজার আনুকা দিঘির ১১৩নং দাগের ৭.৭৭ একর পরিমানের সরকারি খাস পুকুরটি বাংলা ১৪২৩ সন পর্যন্ত “চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে লীজের মেয়াদ শেষ হয়। বাংলা ১৪২৪, ’২৫ ও ১৪২৬সন পর্যন্ত পূণরায় চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে সম্প্রতি জলমহল ইজারা কমিটি ৩ বছরের জন্য সরকারী বিধি মোতাবেক লীজ প্রদান করেন। ওই পুকুরটি ইজারা পেতে গোমস্তাপুর উপজেলার কালিগঞ্জ মৎস্য জীবি সমবায় সমিতি লীজে অংশ গ্রহণ করে লীজ না পাওয়ায় চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্টে ৪৯/২০১৭নং হয়রানীমূলক একটি মামলা করে। পূর্বোক্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ওই সমিতির কমিটিতে নতুন সদস্যদের নিয়ে তাদের আভ্যান্তরিন সমস্যা সৃষ্টি হয়। তদুপুরি পূর্বের সমিতির দসস্যদের ছাড়া মাছ মেরে নেয়ার জন্য স্থানীয় গ্রামবাসি ১০ দিনের সময় বেঁধে দেন। তারা মাছ মেরে নিলেও অজ্ঞাত কারণে পুকুর পাড়ের হারুনর রশিদের ছেলে আজিজুল হক টমাশ(৩৪), আব্দুল করিমের ছেলে আয়েশ(৫৮) ও সেন্টুর ছেলে ইব্রাহীম (৪২)কে রবিবার বেলা আনুমানিক দেড়টার সময় নাচোল থানার এসআই জাহাঙ্গির আলম, এএসআই জহুরুল হক, এএসআই আহসান হাবিব ও এএসআই শুকুর আলী ওই ৩ব্যক্তিকে বেধড়ক পেটাতে থাকলে স্থানীয় নারীরা তাদের আটকের কারণ জানতে এগিয়ে আসলে নারীদেরও পিটিয়ে আহত করে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে গোমস্তাপুর উপজেলার জনৈক যুবলীগ নেতার ইন্ধনে কোর্টের মামলার অযুহাতে স্থানীয় আনুকা দিঘির পাড়ের বসবসরত যুবলীগ নেতাদের পিটিয়ে থানায় নিয়ে আসে। এসময় পুলিশকে মারধোর করতে নিশেধ করলে ১নং কসবা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম ও ২নং ওয়ার্ড সদস্য আক্তারুজ্জামান নাজিমের সাথেও থানাপুলিশ অশালিন আচরণ করে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সহসভাপতি জহুরুল ইসলম ও সদস্য মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান, জলমহল ইজারা কমিটির মাননীয় উপদেষ্টা স্থানীয় সাংসদ মুহা. গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের উপস্থিতিতে কমিটি চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে ৩ বছরের জন্য লীজ প্রদান করেন। এই সমিতির নামে রেজুলেশন হলেও ডিসিআর কাটা না হওয়া পর্যন্ত ওই পুকুরে মাছ চাষ বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলার কালিগঞ্জ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে গোমস্তাপুরের জনৈক যুবলীগ নেতার ইন্ধনে পুলিশী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে চন্দনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ ফাছির উদ্দিন জানান, গোমস্তাপুর উপজেলার জাদুপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে সাইদুর রহমানের অভিযোগে ওই পুকুর পাড়ে পুলিশ পরিদর্শনে যায়। স্থানীয়রা পুলিশের উপর মারমুখি হয়ে চড়াও হলে পুলিশ এসময় মৃদু লাঠি চার্জ করে। তবে আসামীদের পিটানোর অভিযোগ সঠিক নয়।          

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *