Sharing is caring!

20090812-Cooking-230নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দরিদ্র অসহায় ও দুঃস্থদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ কৃত দুম্বার মাংস হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন উপজেলার দুঃস্থ মানুষরা। এঘটনায় ক্ষোভ জনপ্রতিনিধিদেরও। নাচোল উপজেলার ৪ ইউনিয়নের জন্য মোট ৪৮ কার্টুন দুম্বার মাংস জেলা  প্রশাসনের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে নাচোল উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সরকারের বরাদ্দকৃত মাংসগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে এতিমখানা, মাদ্রাাসা, মসজিদ, হসহায়, দুঃস্থ, গরীব মানুষদের মাঝে বিতারন করার নিয়ম থাকলেও উপজেলা প্রশাসন তা সঠিকভাবে বিতরণ না করে নিজেদের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করে দুম্বার মাংশের স্বাদ নিয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলা ত্রান অফিস উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে দুম্বার মাংসগুলো উপজেলার ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু ৪ ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মাংসগুলো সমানভাবে বন্টন করা হয় নি। ৩নং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, এনায়েতুল্লাহ জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের জন্য ৪৮ কার্টুন মাংস সমভাবে বন্টন করলে আমরা পাই ১২ কার্টুন, কিন্তু আমার সদর ইউনিয়নকে দিয়েছে ৮ কার্টুন, ১নং কসবা ইউনিয়নকে ৮ কার্টুন, ২নং ফতেপুর ইউনিয়নকে ৭ কার্টুন এবং ৪নং নেজামপুর ইউনিয়নকে ৮ কার্টুন মাংস দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও কার্টুনের প্যাকেট কাটা ছিল এবং পরিপূর্ণ মাংশ ছিলনা বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দুম্বার মাংসের মোট ৪৮ কার্টুনের মধ্যে ৪ ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে ৩১ কার্টুন। বাকি মাংস কোথায়, তার কোন হদিস নেই। অন্যদিকে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদির হোসেন ভুলু জানান, চারটি ইউনিয়নকে মোট দুম্বার মাংস ৩১ কার্টুন দেওয়া হয়েছে, অবশিষ্ট মাংসগুলো উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের কাছে রয়েছে বলে জানান। এদিকে কসবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের মাংস কারচুপির কারনে উপজেলার হসহায় গরীব মানুষগুলো তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান। নাচোল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জন্য উপজেলার ৩টি প্রেসক্লাবে চার কার্টুন দুম্বার মাংস দিয়েছে, তবে নাচোল প্রেসক্লাব সকল সদস্যদের মাঝে মাংসগুলো বিতরণ করে নি। কয়েকজন মিলেই মাংসগুলো ভাগবাটোয়ার করে নেয়। নাচোল উপজেলার পাশেই অবস্থিত নুরানী এতিমখানা। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এতিম খানাটি কোন দুম্বার মাংস পাইনী বলে সেখানকার পরিচালক জানান। তাছাড়া সদর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের হুসনেআরা (৬৭) জানান, আমি এবার অনেক আশা করেছিলাম, যে শেষ বয়সে হয়তো একটু দুম্বার মাংস থেকে পাব, কিন্তু তাও পেলাম না। উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের মাংস কারচুপির বিষয়টি নিয়ে নাচোল উপজেলার সচেতন মানুষের মধ্যে এক চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত মাংস আত্মসাতের বিষয় নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তাফা বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত মাংস যদি গরীব অসহায় মানুষ না পায়, তবে এর চাইতে দুংখের বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। তবে তিনি মাংস কারচুপির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান। নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ওয়াশিফ জানান, সরকারের বরাদ্দ কৃত দুম্বার মাংসগুলো একমাত্র সকল ইউনিয়নের অসহায় গরীব, দুঃস্থ মানুষরাই পাওয়ার যোগ্য। মাংস বিতরণে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *