Sharing is caring!

20151002-111353_e001স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সাত বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক ধর্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় না নিয়ে স্থানীয় একটি চক্রের সহযোগিতায় ৩১ হাজার টাকা দিয়ে আপোস মীমাংসা করেছে নাচোল থানা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের খেসবা গ্রামের মৃত মুসলিমের ছেলে  লালুর ৭ বছরের শিশু নিজ বাড়ির কাছে স্থানীয় শিশুদের নিয়ে খেলা করছিল। এমনি সময় একই এলাকার প্রতিবেশী ভুলুর জামাই বাবলু (২৫) সেখানে উতপেতে বসেছিল। সে শিশুটিকে ভুলিয়ে নিজ বাড়ির মধ্যে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ করতে থাকলে শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ধর্ষকের হাত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় লোকজন ও গ্রামের চৌকিদার ধর্ষক (বাবলু)কে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে এবং নাচোল থানা পুলিশকে খবর দেয়। এঘটনায় থানার এসআই পারভেজ ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা যাচাই করে আসামীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সেখানে থেকে নিয়ে যাই। কিন্তু এসআই পারভেজ আসামীকে থানায় হাজির না করে বা থানায় কোনরকম এন্ট্রি না করে স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ঐ দিন বিকালে ৩১ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ মিমাংসা করে। কিন্তু ঐ মিমীংসার ৩১হাজার টাকার মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়া হয় মাত্র ১২ হাজার টাকা। অবশিষ্ট ১৯ হাজার টাকার মধ্যে এসআই পারভেজ ৮ হাজার ও স্থানীয় নেতারা ১২হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে জানা যায়। আপোস মীমাংসার বিচারে থাকা খেসবা গ্রামের আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল হোসেন সাহেব ও মাহাতাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আপোস মীমাংসায় আসামীকে মোট ৩১হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, কিন্তু সে টাকার মধ্যে থেকে ভুক্তভোগীকে ১২হাজার টাকা দেওয়া হয় অবশিষ্ট টাকার মধ্যে দারগা পারভেজ ও স্থানীয় নেতারা ভাগবাটোয়ারা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা লালু জানান, আমি মামলা করতে থানায় গেলে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে আমাকে স্থানীয় নেতা ও দারগা পারভেজ আসামির সাথে আপোষ মীমাংসা করে মাত্র ১২ হাজার টাকা দেই। যা আমাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এবিষয়ে নাচোল থানার ওসি (তদন্ত) ফাসিরউদ্দীন জানান, ধর্ষণের বিষয়টি জানি। তবে এসআই পারভেজ আসামিকে ধরে নিয়ে আসার বিষয়টি থানাকে নিশ্চিত করেনী। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের এ রকম আপোষ মীমাংসার কারনে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *