Sharing is caring!

নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনাবগঞ্জে’র নাচোলে জনতা ক্লিনিক ডাক্তারের ভুল অপারেশনের অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর হাত থেকে কোর রকমে রক্ষা পেয়েছে এক বধু। অভিযোগে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের শেফায়েতপুর গ্রামের কলিম উদ্দিনের স্ত্রী বেবী বেগম (২০) গত ২৮ আগস্ট প্রসব ব্যাথা নিয়ে নাচোল জনতা ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে আসে। সেখানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বেবীর আলট্রাসনোগ্রাম করে  দ্রুত সিজার করতে বলেন। কারন জানতে চাইলে তারা বলেন ফ্লুইড কম আছে বলে রোগীর লোকজনকে জানায়। তারা আরো বলেন এ মূহুর্তে যদি অপারেশান না করা হয় তাহলে রোগীর বড়ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। রোগীর লোকজন ভীত হয়ে তড়িঘড়ি করে ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এর পর ডাক্তার মাহমুদুন নবী রোগীর সিজার করেন। ওই সময়ই ভুল অপারেশনের কারনে বেবী বেগম এর মুত্রনালী কেটে যাওয়ার ফলে রোগীর প্রসাবের সমস্যা দেখা দেয় বলে ভুক্তভোগীর পিতা আবুল কাশেম পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ লিপিতে আরোও উল্লেখ করেন, ১সপ্তাহ ক্লিনিকে থাকার পর রোগী তার পিতার বাড়ী একই উপজেলার মিরাপাড়া গ্রামে গেলে সেখানে পৌছার পর শুরু হয় অতিরিক্ত ব্লিডিং। পরদিন সে আবার ওই ক্লিনিকে এলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নিয়ে পূনরায় চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। সেই সাথে রোগীর সমস্ত খরচ  বহনের প্রতিশ্রæতি দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। প্রায় একমাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের খরচ বহন না করে উল্টো রোগীর পরিবারকে হুমকী দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ লিপিতে উল্লেখ করেন। এলাকাবাসী জানায়, নাচোল জনতা ক্লিনিকে নেই ২৪ ঘন্টার জন্য কোন নিয়মিত ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, আধুনিক যন্ত্রপাতি। অপারেশনের সময় একজন সার্জন, একজন সহকারী সার্জন, একজন ডিপ্লোমা নার্স ও একজন অজ্ঞান করা ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও হর হামেসাই একজন জেনারেল এমবিবিএস দিয়ে অপারেশন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাচোল বাসষ্ট্যান্ড মোড়ে একটি মফ¯^ল গলিতে ক্লিনিকটি অবস্থিত। সরোজমিনে গিয়ে দেখলে দেখা যাবে এ ক্লিনিকটি ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্লিনিকের অবস্থার সার্বিক দিক বিবেচনা করলে মনে হয় এ যেন একটি মৃত্যুপুরি। তার পরেও বরেন্দ্র এলাকায় মানুষ সামান্য সেবা পাওয়ার জন্য গরীব ও অসহায় রোগীরা এসব ক্লিনিকে বাধ্য হয়ে আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। এব্যাপারে ক্লিনিকের ডাক্তার মাহমুদুন নবীর সাথে ০১৭৩৩০৬৫৪৬৩ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ এড়িয়ে বলেন, ক্লিনিকের সাথে আমার কোন প্রকার সম্পর্ক নেই শুধু বিল্ডিং ভাড়া দিয়েছি। তিনি বলেন সবকিছুই এখন দেখাশোনা করেন বশির আহম্মেদ। বশির আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছি। এলাকাবাসী জানায়, তোফাজ্জল হোসেন এর বাড়িতে জনতা ক্লিনিক অবস্থিত, তার স্ত্রী বিলকিস বেগম পরিচালক ও মেয়ে রুবি খাতুন নাচোল হাসপাতালের মেডিকের এ্যাসিসটেন্ট হিসেবে চাকুরী করেন। এর পাশাপাশি ক্লিনিকের সার্বক্ষনিক ডিউটি ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ক্লিনিকের যাবতীয় আল্ট্রাসোনোগ্রাম ও অপারেশান করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে জানা গেছে, ক্লিনিকে সার্বিক দায়িত্বে থাকা বশিরের স্ত্রী সিষ্টারের কাজ করেন। যার এ বিষয়ে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এব্যাপারে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত ফাসিরুদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *