Sharing is caring!

নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিনের খুঁটির জোর কোথায় \
বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রচারের পরও বহাল
তবিয়তে \ থানার পাশেই জুয়ার আসর

12239735_1643192805933806_1361087555611720072_n_e001স্টাফ রিপোর্টার \ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিনের খুঁটির জোর কোথায়। তার অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে স্থানীয়সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার রাজত্ব। অনিয়মের পরও সে দাম্ভিকতার সাথেই চালাচ্ছেন জুয়ার আসর থেকে মাসোহারা আদায়সহ বিভিন্ন বানিজ্য। স্থানীয়দের মনে তার কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিন সরকার দলীয় লোকের কথা অমান্য করে জুয়া খেলার আসর তৈরি করেছে নাচোল থানার পাশেই। এমনটিই প্রশ্ন জেগেছে নাচোল উপজেলার সচেতন নাগরিক মহলে। গত ছয় মাস ধরে নাচোল থানার ওসি না থাকায় বর্তমানে তদন্ত ওসি ফাছির উদ্দিন নাচোল থানায় গড়ে তুলেছে জুয়া খেলার আসর। ১মাস পূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় ওসি ফাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ও কিভাবে বহাল তবিয়তে নাচোল থানায় দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ওসি ফাছির উদ্দিন, এমনটাই প্রশ্ন জেগেছে এখন সরকার দলীয় লোকজনের কাছে। ওসি ফাছির উদ্দিনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি নাচোল থানার গাছও। মানুষ নিয়ে গ্রেফতার বানিজ্য করতে করতে তিনি গাছ আটক করেও বানিজ্য করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ই নভেম্বর নাচোল পৌর এলাকার মোহাম্মদ সুভান আলীর ছেলে মতিউর রহমানের কন্যাগর মৌজার খাস জমি ৫৭৯দাগে একটি বড় মেহগনি গাছ ছিল। সেই গাছ মতিউর রহমান পৌরসভা থেকে টেন্ডার নিয়ে বিক্রি করার জন্য কাটলে নাচোল থানার তদন্ত ওসি ফাছির উদ্দীন পরের দিন মেহগনি গাছটি জোরপূর্বক থানায় নিয়ে আসে। সেই গাছের মোটা অংশ দিয়ে ওসি তার বাড়ির জন্য সোকেস ও আসবাবপত্র তৈরি করেন বলে নাচোল থানারই একজন সুত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী গাছের মালিক মতিউর রহমান জানান, গাছ চাইতে গেলে ওসি বলেন, “ব্যাটা তোর বাপের গাছ, আমি তোর গাছ দিয়ে সোকেস বানিয়ে নিয়েছি। এ বিষয়ে আর কোন দিন থানায় আসবিনা। গাছের বিষয় নিয়ে থানায় আসলে বেটা তোকে অন্য মামলায় দিয়ে চালান করে দেব, তখন বুঝবি” বিভিন্ন পত্রিকায় তদন্ত ওসির অপকর্মের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরও কীভাবে ওসি ফাছির উদ্দীন দায়িত্ব পালন করছেন তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ছিড়ে ফেলা, জোরপূর্বক জব্দ করা গাছের কাঠ দিয়ে ওসির বাড়ির আসবাব তৈরী, জামায়াত-বিএনপির লোকজনের কাছে থেকে গ্রেফতার এড়াতে ও জুয়ার আসর থেকে মোটা অংকের উৎেকাচ গ্রহণ থেকে শুরু এমন কোন অভিযোগ নেই যে তার বিরুদ্ধে উঠেনী। তারপরও নাচোল থানায় দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ওসি ফাছির উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০জানুয়ারি শনিবার উপজেলার মল্লিকপুর হাটে এক ব্যবসায়ী তার মোটর সাইকেল রেখে বাজারের ভিতরে গেলে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঐ মোটর সাইকেলটির তালা (লক)খোলার চেষ্টাকালে উপস্থিত জনতা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে পালানোর সময় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। আটক ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউপির একবোরপুর গ্রামের মৃত দানেশ আলীর ছেলে বিপ্লব ওরফে বিপুল (৩৫)। সে আন্তঃজেলা মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়া সত্বেও ওসি ফাছির উদ্দীন তার পরিবারের লোকজনের কাছে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে পরের দিন সেই চোর কে গাঁজা সেবন কারী সাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়ে জান। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিসট্রেট সরকার অসিম কুমার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে জানতে পারায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে  থানায় মামলা দ্বায়ের করার জন্য ওসি ফাছির উদ্দিনকে নির্দেশ দেন এবং তিনি ওসি ফাছির উদ্দিনকে এরকম কার্যকলাপ না করার জন্য সতর্ক করেন। অন্যদিকে, নাচোল পৌর এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের উত্তর পাশে জনৈক ওবাইদুর রহমানের পিয়ারার বাগানে মাসের পর মাস রাতভর জুয়ার আসর চালিয়ে আসছিল বলে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা যায়। নাচোল, আমনুরা, গোমস্তাপুর-রহনপুর, শিবগঞ্জ এলাকার বেশ কিছু চিহ্নিত জুয়াড়ী এ জুয়ার আসরে খেলায় অংশ নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের নাকের ডগায় জুয়া খেলার আসর চললেও এতো দিনেও ঘুম ভাঙ্গেনী পুলিশের। এলাকাবাসীর অভিযোগ নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিনের সাথে জুয়াড়ীদের সখ্যতা রয়েছে। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও আওয়ামীলীগের পৌর সভাপতি আব্দুর রশিদ খান ঝালু জানান, নিয়মিত জুয়া খেলার বিষয়টি এলাকাবাসী আমাকে বন্ধের জন্য অনুরোধ করলে ওসি ফাছির উদ্দিনকে আমি জুয়া বন্ধের জন্য নির্দেশ দিই। কিন্তু ওসি ফাছির উদ্দিন কালক্ষেপন করতে থাকলে আমি নিজেই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার জুয়া খেলার আসর বন্ধ করে দিই। কিন্তু নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিনের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পিয়ারার বাগানে জুয়া খেলার বিষয়টি পুলিশ জানতে পারলে সেখানে গিয়ে পুলিশ হানা দিলে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় ৬-০২-২০০৭ সালে ওসি ফাসির উদ্দিন ঢাকার শাহালী থানায় এস.আই হিসাবে দায়িত্ব থাকাকালীন অবস্থায় মোটা অংকের উৎেকাচ গ্রহণের সময় যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং ঐ থানায় একটি তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয় বলে জানা যায়। তাছাড়া নাচোল থানায় তদন্ত ওসি থাকা অবস্থায় ওসি ফাছির উদ্দিন নিজ¯^ বাড়ি মান্দা এলাকার দুই জেএমবি সদস্যকে নাচোল থানায় আটক করে। কিন্তু ওসি ফাছির উদ্দিন ছোট ভাইয়ের কথায় জেএমবি সদস্যদের ছেড়ে দেওয়ার পর অবশেষে পরের দিন পুলিশ বিভাগের চাপের মুখে ঐ জেএমবি সদস্যদের ধরতে বাধ্য হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান। নাচোলের রানী ইলামিত্রের পুণ্যভূমি ও আন্দোলনের সৃষ্টিকারী স্থানস্থ নামধন্য নাচোলে এমন দুর্ণীতিবাজ অফিসারের দাম্ভিকতা সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়। তাই উপজেলার সচেতন নাগরিক মহলের দাবি, অবিলম্বে নাচোল থানার ওসি ফাছির উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে জনমনে স্বস্তির ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন নাচোলবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *