Sharing is caring!

নাচোল প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে জননী ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারের রোগী মৃত্যুর ঘটনা মামলায় আটক ভুয়া চিকিৎসক মাহফুজকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে আসা আসামী বুধবার বেলা ১টা ২০মিনিটের দিকে নিজের পরনের প্যান্ট ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই উপজেলার নেজামপুর ইউপির জাহিদপুর হাটবাকইল গ্রামের নাসিরুদ্দনের মেয়ে কিশোরী নাহিদা খাতুন(১৪)কে ভুল অপারেশনে হত্যা মামলায় ওইরাতে (১৯ জুলাই) আটক করে নাচোল থানা পুলিশ। নাচোল থানা পুলিশ উক্ত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ২দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে (২৬ জুলাই) ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার ফতেপুর ইউপির মির্জাপুর এলাকায় এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধারে গিয়ে থানা হাজতে আটক মাহফুজের আত্মহত্যার খবর জানতে পারেন। বিষয়টি অতিরিক্ত পলিশ সুপার মাহবুব আলম খানকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ নাজমুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু, উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সফিকুল ইসলাম ও নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, ওসি তদন্ত মাহাতাব উদ্দিনসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানা হাজতের টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে মাহফুজের লাশ উদ্ধার করেন। লাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতের লাশ জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে নাচোল থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলে অফিসার ইনচার্জ নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, নাচোল জননী ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারে পেটের ব্যাথা নিয়ে গত ১৭ জুলাই বিকালে কিশোরী নাহিদা খাতুন(১৪) ভর্তি হয়। ওই ক্লিনিকের ভুয়া চিকিৎসক মাহাফুজুর রহামান (এমবিবিএস) পরীক্ষান্তে (আলট্রাসনোগ্রাফির পর)ওই রোগিকে রাত সাড়ে ৯টায় এপেন্ডিসাইট অপারেশন করেন। অপারেশনের পর ১৮ জুলাই বিকালে ওই রোগির শরিরের তাপমাত্রা অ¯^ভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ সময়  ওই ভুয়া ডাক্তার রোগির জ্বরের ঔষধ দেন। কিন্তু তাতেও জ্বরের তীব্রতা না কমায় এবং রোগির অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছিলে ১৯ জুলাই নাহিদার ¯^জনরা নাচোল উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুধবার বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে রামেক হাসপাতালে উন্ত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে  রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই নাহিদা খাতুনের মৃত্যু হয়। মৃত নাহিদার ¯^জনরা ওই রাতেই ভুয়া ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্সের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দয়ের করেন। মাসুদ রানা বাদল নামধারী ভুয়া ডাক্তারকে ক্লিনিকের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় নাচোল থানা পুলিশ আটক করেন। এদিকে একটি সূত্রমতে ২০১৩ সালে এমবিবিএস পাসের সনদপত্রে ওই ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাস করেছে বলে দেখা যায়। তবে ডাঃ মাসুদ রানা বাদলের দাখিল করা এই সনদের প্রকৃত ডাক্তার সিরাজগঞ্জের সৈয়দ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত আছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তাই মাসুদ রানা বাদল অন্যের সনদে ডাক্তারী পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অনেকের নিকট সন্দেহ হয়। গত ২০ জুলাই রাতে নিহত কিশোরীর পিতা নাসিরুদ্দীন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আত্মহত্যাকারী মাহফুজুর রহমান নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার জগদিশপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের ছেলে মাহফুজুর রহমান(২৭)। সে মাসুদ রানা বাদল নাম ধারণ করে বিভিন্ন ক্লিনিকে ডাক্তারী পেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *