Sharing is caring!

নাটোরের ত্রাস দুলুর অপকর্মের বদৌলতে

জনপ্রিয়তা নেই স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বেশ কৌশলী হয়ে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। উক্ত আসনে নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল এবং তার স্ত্রী নাটোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবি দুজনকেই দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয় দলটি। মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে দুলুর মনোনয়ন বাতিল বলে বিবেচিত হওয়ায় ওই আসনে নির্বাচন করছেন তার স্ত্রী। কিন্তু বিগত সময়ে দুলুর বিভিন্ন অপকর্মের কারণেই তার স্ত্রীর জনপ্রিয়তা হারাতে হয়েছে। সাবিনা ইয়াসমিন দলের একক প্রার্থী হলেও স্বামীর অতীত অপকর্মের বদৌলতে বেশ বিপাকে পড়েছেন তিনি।তথ্যমতে, জেএমবি নেতা বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের মত দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের গডফাদার ছিলেন এই রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন ভূমি উপমন্ত্রী। মন্ত্রিতের সেই প্রভাব খাটিয়ে তারেক সহযোগিতায় নাটোর তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের ত্রাস হয়ে উঠেন দুলু। তখন শুধু সাধারণ মানুষই নন, একক আধিপত্য বিস্তার করতে নিজ দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর বিভিন্ন রকম নিৰ্যাতন চালিয়েছেন। তখনকার সময়ে নাটোর জেলা বিএনপিতে দুলুর কথাই ছিল শেষ কথা। দলীয় নেতৃত্বে নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন কোন কিছুতেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে চলেন না রুহুল কুদ্দুস। সর্বত্র তিনি আত্মীয়করণ করছেন। তিনি নিজে জেলা বিএনপির সভাপতি, তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সহসভাপতি, বড় ভাই রুহুল আমিন তালুকদার পৌর বিএনপির সভাপতি। তবে গত ১০ বছরে পরিস্থিতি ও অংক দুটোই পাল্টে গিয়েছে, এখন আর দুলুর একক কর্তৃত্ব নেই নাটোর জেলা বিএনপিতে। এমন নানান হিসেবের জেরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও হঠাৎ তাতে ভাটা পড়েছে। বিপাকে পড়তে হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিন ছবিকে। তিনি কর্মীদের সমর্থন হারানোর জন্য মুষড়ে পড়েছেন। আর তাই নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ব্যবহার করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখা। সেগুলোতে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডামূলক ছবি-পোস্ট শেয়ারে মেতে উঠেছেন। এমনকি সাবিনা ইয়াসমিন ছবির কন্যাও এ প্রচারণায় অংশ নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হতে সরকারবিরোধী মিথ্যে-বানোয়াট পোস্ট শেয়ার করছেন। এর ফলে নাটোর-২ আসনের ভোটারদের কাছে আরও বিতর্কিত হয়ে পড়ছেন সাবিনা ইয়াসমিন।

দুলুর দুর্নীতি ও দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল একসময়ের জনপ্রিয় নেতা হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নাটোরবাসীর কাছে তার গুরুত্ব একেবারে শেষের দিকে। যদি তিনি নিজেও নির্বাচন করতেন তবে অজনপ্রিয়তার কারণে তার হাল স্ত্রী ছবির মতোই হতো। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সত্য স্পষ্ট যে, এই আসনে দুলু ভাইয়ের কারণে বিএনপির যে করুণ দশা হয়েছে তা এবারের নির্বাচনে একেবারে উন্মোচন হয়ে যাবে। সাধারণ ভোটাররাও দুলু ও তার স্ত্রী বিমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *