Sharing is caring!

নানা সমস্যায় জর্জরিত নাচোল রেলস্টেশন :

নেই স্টেশন মাস্টারও

♦ অলিউল হক ডলার, নাচোল 

১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল স্টেশনটির সমস্যার যেন অন্ত নেই। বর্তমানে নাচোল রেল স্টেশনটি অবৈধ দখলদারদের দখলে। নেই স্টেশন মাস্টারও। স্টেশন মাষ্টার ছাড়াই কুলি দিয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। এ রুটে যাতায়াতকারী মহানন্দা এক্সপ্রেস, সার্টল ও কমিউটার ট্রেনের বগির সংখ্যা রহনপুর-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রীদের অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ৮টায় ইশ্বরর্দী থেকে ছেড়ে আসা রহনপুরগামী সার্টল ট্রেনটির বগির সংখ্যা মাত্র ৫টি থাকায় অনেক যাত্রী ট্রেনে বসার আসনও পাচ্ছে না। অন্যদিকে, রহনপুর থেকে সকাল সাড়ে ৫টায় ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে মাত্র ৭টি বগি থাকায় নাচোল স্টেশনে আসা যাত্রীরা আসন তো দুরের কথা দাঁড়ানোর যায়গাও পায়না। এদিকে, ইশ্বরদি থেকে ছেড়ে আসা রহনপুরগামী কমিউটার” ট্রেনটি দিনে ২বার এ রুটে চলাচল করে। কিন্তু ওই ট্রেনের পর্যাপ্ত বগি না থাকায় নাচোলের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাচোল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা পর্যাপ্ত আসনের বিপরিতে টিকিটও পাচ্ছেনা। নাচোল রেল স্টেশন প্ল্যাটফরমসহ স্টেশন সংলগ্ন এলাকা অবৈধ দখলদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের কবলে থাকায় যাত্রীরা ট্রেনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেও সমস্যার মধ্যে পড়ে। এছাড়া প্ল্যাটফরমে অটোভ্যান, মটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন অবাধে চলাচল করছে। ফলে যাত্রীরা নিরাপত্তা পাচ্ছেনা। প্ল্যাটফরমে যাত্রী সেড না থাকায় রোদ, বৃস্টি, ঝড়ের সময় যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ও থাকে না। নাচোল রেল স্টেশন প্ল্যাট ফরমের পূর্বাংশে উপজেলা ভূমি অফিস, মৎস্য খামার, খাদ্যগুদাম, রেলওয়ে বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। স্টেশনের পশ্চিমাংশে গুঠইল মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সী হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও আল জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার মিল-কারখানার শ্রমিক ও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনের উপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। দীর্ঘদিনের ওভার ব্রীজের দাবীটি বিভিন্ন ফোরামে আলোচিত হলেও সেটি নির্মানের ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমানে টয়লেট, পয়ঃনিস্কাশন ও পানির ব্যবস্থাও নেই। স্টেশন এলাকার পূর্বপাশে স্টেশন বাজার ও দোকান ঘর এবং হোটেলের নোংরা পানি ও ময়লার দূর্গন্ধে অতিষ্ট যাত্রীরা। বৃটিশ আমলে স্থাপিত ও বিরাঙ্গনা ইলামিত্রের স্মৃতি বিজড়িত নাচোল রেল স্টেশনটি দ্বিতীয় শ্রেণীর হলেও স্বাধীনাতার ৪৮ বছর পরও এ স্টেশনটির উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। তে-ভাগা আন্দোলনের বীরাঙ্গনা নেত্রী ইলামিত্রের স্মৃতিবিজড়িত ও অবহেলিত নাচোল রেল স্টেশনটির ব্যাপারে ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে স্টেশন ঘরটির সংস্কার হয়েছে মাত্র। কিন্তু স্টেশনটির কোন উন্নয়ন ঘটেনি। অবহেলিত নাচোল রেল স্টেশনটির উন্নয়নের জন্য রেল মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন নাচোলবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *