Sharing is caring!

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিএনপির ৭ প্রার্থীর মামলা

নির্বাচন পরিচালনা বিধি-২০০৮ এর ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ বা অগ্ৰহণযোগ্যতা থাকলে আইনি লড়াইয়ের জন্য  নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের ফলের গেজেট গত ১ জানুয়ারি প্রকাশ হয়। সময়সীমা অনুযায়ী ১৫ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।

সময়সীমা শেষ হবার আগের দিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে ‘ভোট ডাকাতি’ ও ‘কারচুপির’ অভিযোগ এনে হাইকোর্টে মামলা করেছেন বিএনপির সাত প্রার্থী এবং গণফোরামের কয়েকজন প্রার্থী।

বিএনপি থেকে মাত্র সাত জন প্রার্থী মামলা করায় অসন্তোষ বিরাজ করছে দলের ভেতর ও বাহিরে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে তারেক জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫০ জন প্রার্থীর মামলা করার কথা ছিলো। শুধু মাত্র গুটি কয়েকজনের মামলা করার ব্যাপারে দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনে অনিয়ম বা কারচুপির চিত্র সংবাদ মাধ্যমে যতটুকু প্রকাশ হয়েছে, এর বাইরে বিএনপি বা তাদের জোটের প্রার্থীরা সেভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন নি, সেজন্য মামলা হেরে যাওয়ার ভয়ে মামলা করতে সাহস পাননি অনেকে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। সেই কমিটির দায়িত্ব ছিলো ১০ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে দেড় শতাধিক আসনের নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দলীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া। গোপন সূত্রে জানা গেছে প্রয়োজনে নির্বাচন কারচুপির বিশ্বাসযোগ্য নকল ভিডিও ও ছবি তৈরির নির্দেশও দিয়েছিলেন তারেক রহমান।  তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে এ নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তারেক রহমানের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে নির্বাচন নিয়ে মামলা করার ব্যাপারে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যায় দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে নিজ দায়িত্বে বিএনপির ৭ জন এবং গণফোরামের ২ জন প্রার্থী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে এতটাই হতাশা তৈরি হয় যে, দলটির কার্যক্রমই থমকে যায়। এই অবস্থায় বিএনপির নীতিনির্ধারক বা সিনিয়র নেতারা নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখতে পারছেননা।

নির্বাচনে বর্জন না করে শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচনে থাকা- এই বিষয়গুলোতে বিএনপিতে এখনও বিতর্ক চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *