Sharing is caring!

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সহিংসতার ঘটনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিনই প্রাথীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় প্রার্থী থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকরা আহত হচ্ছেন। এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রায় ৩৯৪ কোটি টাকা বাজেটও বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ধরনের অবনতি যেন না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্বাচন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী সদস্যদের। সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সারাদেশে নজরদারি বাড়িয়েছে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। সব মিলিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ছয় লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডারের ৬৩৭ জন কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক সোহেল রানা জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাখা হয়েছে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং কুইক রেসপন্স টিম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে পুলিশ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কমিটি নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে শুরু করে নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশনকে অবহিত করবে। প্রয়োজনে কমিশনের নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেবে। ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো প্রকার ত্রুটি রাখছে না ইসি। এখন দেখার বিষয় এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়ার পরও বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীরা নির্বাচনকে ঘিরে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটাতে পারে কি না?

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *