Sharing is caring!

Vata pic shibganj 01-02-2015
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনিক নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ইটভাটা মালিকরা ইট পুড়ানোর কাজে ব্যবহার করছে ফলদ বৃক্ষের কাঠ। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ইটভাটার আশপাশের ফসলি জমি ও ফলদ গাছ। এতে সাধারণ কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে পড়েছে। জানা গেছে, এলাকার বছরের মৌসুমী ২-৩ ধরণের ফসলি জমি আম, কাঁঠাল, জাম, লিচুসহ ফলজ ও চাষাবাদকৃত সব্জির ব্যপক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর সাধারণ কৃষকরা তাদের ফসলের উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে জনবসতির একেবারে কাছাকাছি। যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশ অধিপ্ততরের অনুমোদন পত্র নেই বলে অনুসন্ধানে জানা গছে। স্থানীরা অনেক প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়ার পরও ইটভাটা মালিকরা অনড় ইট পুড়ানো কাজে কাঠ ব্যবহার করতে। এসব পরিবেশের ক্ষতিকারী ব্যবসায়ীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দেদাড়শে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সকল কার্যক্রম। এদিকে মৃত্তিকা বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি জমির উপরিভাগ কেটে ফেলার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট Vata pic shibganj 01-02-2016 (1)হয়ে যাচ্ছে। যা খাদ্যশস্য উৎপাদনে মারাত্মক  নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ জমির উপরিভাগের মাটির ৯ ইঞ্চি থেকে ১ ফুট পর্যন্ত উদ্ভিদের খাদ্যকণা থাকে। আর এ মাটি কেটে ফেলা হলে জমি আবাদ করা ফসল পর্যাপ্ত খাদ্যকণা পায় না। আর একবার জমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে তা পূরণ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ বছর। এদিকে, সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি ইটভাটার মধ্যে হাতে গোনা ৫টি ইট ভাটায় কয়লা ও গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। আর বাকি ২৫টি ইটভাটাতেই ব্যবহৃত হচ্ছে আম, কাঁঠালের মত ফলজ ও বনজ গাছপালাসহ বিভিন্ন ধরণের কাঠ। এদিকে উপজেলার কয়লাদিয়াড়ের অবস্থিত সাথী, সোনি, রানীনগরে অবস্থিত লাভ, দাদনচকে অবস্থিত আরপিবি ও বাটা ইটভাটাই দেখা গেছে এসব কার্যক্রম। তবে, এব্যাপারে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই প্রতিবেদকের সাথে কোন কথা বলেননি। এব্যপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আফাজ উদ্দিন জানান, উপজেলায় প্রায় ৩০টি ইটভাটা রয়েছে। আমরা এই ভাটাগুলো মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করি। বেশকিছু দিন থেকে ইটভাটাগুলো পরিদর্শন করা হয়নি। ইটভাটাই কোন প্রকার কাঠ পোড়ানো যাবেনা। তাই প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ইটভাটা মালিকরা হয়তো বা কাঠ ব্যবহার করছে। এধরণের কোন অভিযোগ থাকলে এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসলে আমরা আইনুগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *