Sharing is caring!

নেত্রকোনা-৪ আসনে ‘অপরাধ সম্রাট’

লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রীকে

প্রতিহতের ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক: নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন এবং খালিয়াজুরি) আসনে ২০ দলীয় জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন অপরাধ সম্রাট ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী শ্রাবণী তাহমিনা জামান। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পকদের অন্যতম এই নেতার স্ত্রীকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের ভোটাররা। তারা বলছেন, ঘৃণিত অপরাধী বাবরের স্ত্রীকে যেকোনমূল্যে প্রতিহত করবে এই আসনের ভোটাররা।২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছিলেন ‘অপরাধ জগতে আমি আগন্তুক নই’। তিনি যে আগন্তুক ছিলেন না, সেটা ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় হওয়ার পর একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। অস্ত্র চোরাচালান মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও অস্ত্র আইনে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। নেত্রকোনায় বাবরের গ্রামের বাড়ি হলেও তিনি বেড়ে উঠেছিলেন ঢাকার মগবাজারে। তখন থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অপরাধ করার পর ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিলে তার কলঙ্ক ঢাকা পড়ে। এসময় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান করে নেন। এবং নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার সরকারের আমলেই ২০০৪ সালে ধরা পড়ে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান। এছাড়া দুর্ধর্ষ পিচ্চি হান্নান থেকে শুরু করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেড়ে ওঠা তার হাত ধরেই। ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে টেন্ডারবাজি, প্রমোশন, নিয়োগ বাণিজ্য, ভূমি জবর দখলের মাধ্যমেও সম্পদের মালিক হন তিনি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রধান পরিকল্পক হিসেবে তার নাম উচ্চারিত হয় আজো। এছাড়া হাওয়া ভবনের মত ষড়যন্ত্রের বাতিঘরেও তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য।

এসব ঘটনার জেরে নেত্রকোনা-৪ আসনের ভোটাররা পুনরায় লুৎফুজ্জামান বাবরের মত সন্ত্রাসীর পুনরাবৃত্তি চায় না। তারা বলছেন, একজন ঘৃণিত ব্যক্তি যিনি হাতের মুঠোয় ক্ষমতা পেয়ে অপরাধের রাজত্ব গড়েছিলেন সেভাবে তার পরিবারের আর কেউ নতুনভাবে রাজত্ব গড়ুক তা দেশের সচেতন মানুষের পাশাপাশি নেত্রকোনা-৪ আসনের মানুষও চায় না।

এ প্রসঙ্গে জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আহাদ সরদার বলেন, আমরা সমৃদ্ধ নেত্রকোনা চাই। এ আসনের মানুষ চায় শান্তি। তাই ভোটাররা বাবরের স্ত্রীকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা সবাই এ ব্যাপারে একমত। সমৃদ্ধ নেত্রকোনার জন্য আমরা তাকে ভোটের মাধ্যমে পরাজিত করবো।

এদিকে লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী জনসমর্থন হারিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় গা-ছাড়া দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তিনি এখন সরব হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঝড় তুলছেন, ভোট চাইছেন। সূত্র বলছে, তার স্ট্যাটাসের কমেন্ট বক্সে মানুষ একযোগে তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *