Sharing is caring!

নড়াইলের কালিয়ায় নাশকতার ছক

বাস্তবায়নে মাঠে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: নড়াইলের কালিয়ায় নাশকতার ছক বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে কালিয়া উপজেলা পরিষদের আওয়ামী সমর্থিত চেয়ারম্যান খান শামীম রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র বলছে, উপজেলার নড়াগাতি থানা বিএনপির তিনটি ইউনিট আসন্ন নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে নাশকতার ছক কষেছে। তিনটি ইউনিটে মোট ৮০ জন ক্যাডার রাখা হয়েছে। যাতে যেকোন পরিস্থিতিতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়।

১৫ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম রহমানের হত্যাচেষ্টাকারীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বাঐসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরাফাত হোসেনকে গ্রেফতারের পর এই নাশকতা পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।

তথ্যসূত্র বলছে, নড়াইল-১ আসনের বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থক বিএনপি নেতাকর্মীরা কালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। ওই সময় সঙ্গে থাকা তার ভাই খাশিয়াল ইউপির চেয়ারম্যান সুইট খান, চাচাতো ভাই হিমু খান ও ভাইপো নাইম খান গুরুতর আহত হন।

ওই ঘটনায় নড়াগাতি থানা বিএনপির সভাপতি খান মতিয়ার রহমানসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর ১৫ ডিসেম্বর রাতে বাঐসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরাফাত হোসেন মোল্যাকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তিতে নাশকতা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সূত্র বলছে, নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নড়াইল-১ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের ভাই আসলাম বিশ্বাসের জড়িত থাকার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরাফাত হোসেনের ভাই আসলাম হোসেন বলেন, ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় খাশিয়াল বাজারে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা খান শামীমুর রহমানকে বিএনপি কর্মীরা আঘাত করে। নির্বাচনে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং নাশকতার বিষয়ের মূল নাটের গুরু হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের ভাই আসলাম বিশ্বাস। আমার ভাই সরাফাত হোসেন তার সঙ্গে চলাফেরা করতো বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলাতে সে জড়িত ছিলো না।

জানা যায়, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসের এক অনুষ্ঠানের হলরুম ভাড়া করাকে কেন্দ্র করে খান শামীমুর রহমানের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এতে ছাত্রদলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের ভাই আসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা খান শামীমুর রহমানের বাড়ির গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা টিভি, ফ্রিজ, সোফা, গ্যাসের চুলা, মোটরবাইকসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী জয়পুর মোড়ের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী তামান্না বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ করার জন্য খান শামীমুর রহমানের বাড়িতে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও চুণ্ণু কাজীর লোকজন ভাঙচুর করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াগাতি থানার ওসি বলেন, ঘটনাটিতে একটি মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *