Sharing is caring!

chapai  regional pic ( 7 ) 26.08.16ইমরান আলী শিবগঞ্জ থেকে \ পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে হঠাৎ পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। আর পানি বন্দি রয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ফলে ওই সব ইউনিয়নের স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজসহ বিভিন্ন শি¶া প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার ফলে ফসলের মাঠে থাকা পাকা আধাপাকাও ফসল তলিয়ে গেছে। আর বন্যার পানিতে ডুবে দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামো জগন্নাথপুর গ্রামের সানাউল্লাহ নামে ৮ বছরের ১ শিশু মারা গেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভারতের বিহারে রাজ্যের ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিত সামলাতে ফারাক্কার ১১৭টি গেটের মধ্যে ৯৯টি গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পদ্মা ও পাগলা নদীতে বিপদ সীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছেন। ফলে প্ল¬াবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দ্রুত বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক এলাকার মানুষই ইতোমধ্যেই পানি বন্দি হয়েছেন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন উচু রাস্তায় বা শহরে কোন ¯^জনের বাড়িতে, কেউ খোলা আকাশের নিচে। গত কয়েকটি দিন থেকে ওই এলাকার পানি বন্দি মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে, এখন পর্যন্ত সরকার বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ পানি বন্দি মানুষদের। ইতোপূর্বে পাঁকা ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের ১০ গ্রামের ১ হাজার পরিবারের ভিটেমাটি, ৬টি জামে মসজিদ, ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। টিউবওয়েলগুলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরমভাবে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। পানি বন্দী লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও গো-খাদ্যের চরম সংকট। মানবেতর জীবনযাপন করছে পানি বন্দী বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন। নেই কোন সরকারী সাহায্য। অধিকাংশ বিদ্যালয় রয়েছে বন্ধ। এদিকে উপজেলার মনাকষা, দূর্লভপুর, পাকা, উজিরপুর ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়ন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ওই সব ইউনিয়নে প্রায় গ্রামে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাঁকা ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মতিউর রহমান জানান পাঁকা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার ভোটার রয়েছে চরল¶ীপুর গ্রামে। এ গ্রামে বসবাস করে অন্তত ৫৫০ পরিবার। এখানে রয়েছে ৫টি মসজিদ ও ১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ গ্রামের ২দিকেই নদী। ৩ দিন থেকে চরমভাবে নদীতীরে ভাঙ্গন শুরু হওয়া ২০ টি পরিবার শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাড়িঘরের আসবাব ও জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে। পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, আমার ইউনিয়নের বোগলাউড়ি, চরকানছিড়া, ডাক্তারপাড়া, ল¶ীপুর, চরল¶ীপুর, কদমতলা, নিশিপাড়া, কটাপাড়া, আইনাল হাজি পাড়া, ২০ রশিযা, ১০ রশিয়া, হলদে পাড়া, পোড়া পাড়ার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে গত ৫ দিন যাবত। এসব এলাকার অধিবাসীদের অনেকেই মাচা ও টং তৈরী করে কোন রকমে বাস করছে। গবাদি পশু রাখা ও তাদের খাবার নিয়ে পড়েছে তারা চরম বিপদে। বানভাসি মানুষদের মধ্যে বেশীর লোকজনেরই হাতে নেই নগদ টাকা ও খাদ্য। বর্তমানে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫ শত বিঘা আউশ ধান। তিনি আরো জানান, আমার ইউনিয়নের ৭০ শতাকাংশ পরিবারের বাড়িঘর পানিতে প¬াবিত হয়ে গেছে। তবে, তাদের সাহায্যের জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দূর্লভchapai  regional pic ( 6 ) 26.08.16পুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাইপাড়া, মনোহরপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, ডাকাতপাড়া, হাসানপুর, খাগচাপাড়া, সোনাপুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামোজগনাথপুর, দোভাগী, আইয়ুব বিশ্বাসের গ্রাঁ সহ প্রায় ৮/১০টি গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এতে গ্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি ও ¶তিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া বিশেষ করে মাঠে থাকা অর্থকারী ফসল হলুদ পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এতে সাধারণ কৃষকরা ব্যপক ¶তিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি আরো জানান, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৯শ বাড়ীঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে এবং প্রায় ১০ একর জমি ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।  এ পর্যন্ত  কোন ত্রাণের ব্যবস্থা হয়নি। তবে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। অন্যদিকে, মনাকষা ইউনিয়নের রাঘববাটি, হঠাৎপাড়া. তারাপুর, ঠুঠাপাড়া, মুন্সিপাড়া, শিংনগর, চরশিংনগর, ভবানীপুর, শ্যামপুর, চরহাঙ্গামীসহ প্রায় ১০/১২টি গ্রামের প্রায় ১৫/২০ হাজারের মত মানুষ বন্যার পানিতে বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে পানি বন্দিরা জানায়, প্রতিবছর বন্যা পানি আমাদের এলাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু অন্য বছরের চেয়ে এবছর ব্যপক বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমাদের চাষকৃত ফসলের ব্যপক ¶তি হয়েছে। এমনকি আমরা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিসার আমিনুজ্জামান জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে হলুদের ও ১৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। অনেক জমিতেই প্রায় ধান কাটা হয়ে গেছে, তবে বন্যা আরো বাড়লে হলুদের জমিতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। শিবগঞ্জে পাঁকা ও দূলর্ভপুর ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকায় ধান ও পাটের তেমন ¶তি হয়নি। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, পাঁকা ইউনিয়নের বেশীর ভাগ এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। এদিকে, শনিবার বিকেলে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন এডিসি জেনারেল আবু জাফর, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ মুনসুর উর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কায়সার মোহাম্মদ প্রমূখ। জেলা প্রশাসক পরিদর্শনকালে বন্যা কবলিত পাঁকা ইউনিয়নের কোঠাপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবারকে এক হাজার টাকা করে ত্রান সহায়তা হিসেবে প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *