Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ দিন ব্যাপি বৃক্ষমেলার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী

পরিবেশ রক্ষায় একটি গাছ কাটলে-লাগান

আরো অন্তত তিনটি: জেলা প্রশাসক

পরিবেশ রক্ষায় একটি গাছ কাটলে তিনটি গাছ লাগানোর আহব্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেছেন, সরকার কৃষকদের পাশে আছে। তাদের সুবিধা দিতে বিভিন্ন কৃষি পন্যে সরকার বিপুল পরিমানে অর্থ প্রণোদনা দিচ্ছে। তাই দেশের অন্যান্য খাতের মতো কৃষিতেও সাফল্য আসছে অনেক বেশি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এ বছর আমরা আম পাড়ায় কোন সময়সীমা বেঁধে দেয় নি। এতে করে গত কয়েক বছর পর এবার লাভের মুখ দেখেছে জেলার সাধারণ আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। এবছর করতে না পারলেও আগামী বছর জেলায় ৪০ কেজিতেই মণ হিসেবে আম কেনা-বেচার সিধান্তটি বাস্তবায়ন করা হবে। এমনকি বিভাগীয় পর্যায়ে এই সিধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারলে অন্যান্য জেলার সাথে আমের উৎপাদন ও বাজারজাতকরনের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া যাবে। “পরিকল্পিত ফল চাষ, যোগাবে পুষ্টি সম্মত খাবার” এই প্রতিপাদ্যে ৭দিন ব্যাপী ফলদ ও বনজ বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবিবার বিকেলে জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে মেলার সমাপনী হয়। জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক অরো বলেন, আমরা জানি, ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারী অনুযায়ী জেলায় মোট জনসংখ্যা ১৪ লক্ষের অধিক। কিন্তু এই জেলায় ২৬ লক্ষ আম গাছ রয়েছে। তার মানে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় দুটি করে গাছ রয়েছে। তবে আম গাছের পাশাপাশি অন্যান্য ফলদ ও ঔযুধি গাছ বেশি করে লাগাতে হবে। জেলা প্রশাসক জানান, এবছর রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় মানের আম গবেষণা কেন্দ্র র্নিমানের দাবি জানিয়েছি। সেটি বাস্তবায়ন হলে জেলার আমভিক্তিক অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। আর্ন্তজাতিক মানের গবেষকরা এখানে গবেষণা করবে। বিদেশে আম রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সলেহ্ আকরামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শামস্ ই তাবরিজ, শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. বরমান হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, মেলায় কৃষি সম্প্রসারণসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কৃষি প্রতিষ্ঠান, নার্সারী মিলে ২৪টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি সরকারি ও ১২টি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। প্রতিটি স্টলে ছিল ফলদ, বনজ, ঔষধি, বিভিন্ন প্রকার ফলসহ কৃষি যন্ত্রপাতি। এ বছর মেলায় ১ম স্থান অধিকার করে মনামিনা কৃষি খামার, দ্বিতীয় খামারবাড়ি নার্সারি, স্বরূপনগর এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে গ্রীণ বনসাই, আলীনগর। ৭দিন ব্যাপী মেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ছাড়াও হর্টিকালচার সেন্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্র, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগসহ জেলার বেসরকারি বিভিন্ন কৃষি নার্সারী, কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *