Sharing is caring!

পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

নাচোলে ৬ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

♦ নাচোল প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে এক প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারীতার কারণে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ৬ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা চত্বরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও এসএসসি পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্মারক লিপি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, শিক্ষার্থীরা আগামী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলো, সিংরইল গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে লিজা খাতুন, একই গ্রামের জগদিস চন্দ্র বর্মনের মেয়ে তমা রানী, ও তহরুল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা খাতুন, আমলাইন গ্রামের দুরুল হোদার মেয়ে রেহেনা খাতুন, টাকাহারা গ্রামের জাম বাবু রায় এর ছেলে সুবাস রায়, ও একই গ্রামের জয়দেব ঘোষের ছেলে প্রসেনজিৎ ঘোষ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মাধবপুর স্কুল থেকে ২০১৭ সালে জে.এস.সি পরীক্ষায় পাস করে ৬ শিক্ষার্থী ভর্তি হয় নাচোল পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজে। কিন্তু পাঠশালা একাডেমীর এএসসি পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি না থাকায় ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪জন ছাত্রী ২০১৮/’১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি দেখানো হয় উপজেলার মসলিমপুর গার্লস একামেীতে ও ২জন ছাত্র ভর্তি দেখানো হয় পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশংসাপত্র, প্রবেশপত্র, বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র, নিবন্ধনপত্র ও নম্বরপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিগত ২বছর যাবত ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউরের নিকট ধর্ণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কাগজপত্র পায়নি বলে ইউএনও ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট অভিযোগ করেছেন। তারা আরো অভিযোগ করেন ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন করতে ওইসব কাগজপত্র না থাকায় ওই সব শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। তাই বাধ্য হয়ে গত ১৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর কাগজপত্র সরবরাহের দাবিতে আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ৬ শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগে জানান, বিগত ২বছর ধরে হেড মাস্টারের নিকট ঘুরেও ছেলেমেয়েদের কাগজপত্র পায়নি। এদিকে মুসলিমপুর গার্লস একাডেমীর প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও পীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসলেহুদ্দীন জানান, তাঁরাও মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে ওই ছাত্রছাত্রীর কাগজপত্র চেয়ে বার বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি সময়মত কাগজপত্র সরবরাহ করেননি, তাই ওই ৬ এসএসসি পরীক্ষার্থীর ২০২০সালে পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ৬ শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার নিকট তাদের দাবী সম্পর্কে অবহিত করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জানান, ১৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের আবেদন পেয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের জন্য ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। এবিষয়ে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ওই ৬ শিক্ষার্থী তার স্কুলে লেখাপড়া করেছে, কিন্তু তারা তাদের কাগজপত্র আমার নিকট থেকে নিয়ে যায়নি। তিনি দাবি করে বলেন, ওই শিক্ষার্থীরা আমার স্কুলে নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও আমি ২০২০ সালের এসএসসির পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে নিবন্ধনের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *