Sharing is caring!

DSCN6648শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ পাথর আমদানিতে জটিলতা নিরসনে দু’দেশের আমদানি ও রফতানিকারকদের বৈঠক হয় বুধবার বিকেলে। টানা ৪ ঘন্টাব্যাপি দ্বিপা¶িক বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার থেকে পাথর আমদানি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সোনামসজিদ স্থলন্দরের পাথর আমদানি ও রপ্তানিকারকরা। গত শনিবার থেকে দেশীয় আমদানিকারকরা ভারতীয় রফতানিকারকদের দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে কৃত্রিম সংকট ও জটিলতা তৈরি করায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বন্ধ রাখার ৫ম দিনের মাথায় ভারতের মহদীপুরে ভারতের এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রফতানিকারক গ্রুপের নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে আমদানি পাথর শুরু করার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপের সভাপতি কবিরুর রহমান খাঁন। বুধবার দুপুর থেকে চলা বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যায়। বৈঠকে আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপের সভাপতি কবিরুর রহমান খাঁন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ আবু তালেবের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি দল ভারতের মোহদিপুরে মহদীপুর এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সাথে মিলিত হয়। প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় আড়াইশ ট্রাক বা ১০ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয় ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। গত মাসে ২ লক্ষ ৪১ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হওয়ায় সরকার রাজ¯^ আয় করে প্রায় ২২ কোটি টাকা। এসব পাথর দেশের মেগা প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান আমদানিকারকরা। বুধবার সন্ধ্যায় ভারত থেকে বৈঠক শেষে ফিরে আমদানিকারক গ্রæপের সভাপতি কবিরুর রহমান খাঁন জানান, দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, পাথরবাহী ভারতীয় ট্রাককে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা এবং সেখানে নিম্নমানের পাথর মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টির মতো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা লুটছিল ভারতীয় রফতানিকারকরা। জটিলতা নিরসনের জন্য আল্টিমেটাম দিয়েও কোন কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমদানিকারকরা শনিবার থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয় সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। এর প্রেক্ষিতে ভারতে বুধবারের বৈঠকে রফতানিকারকরা ২০ ফেব্রæয়ারী আবারো আমাদের সাথে বৈঠক করবে এবং এরপর দাবিগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। প্রেক্ষিতে আমরা বৃহস্পতিবার থেকে পাথর আমদানি করতে সম্মত হয়েছি ঐক্যমতের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের বৃহৎ দুটি প্রকল্প পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যাপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রফতানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের এক ধরনের জিম্মি করে অধিক মুনাফা আদায় করছে। সংকটের সমাধান না পেয়ে ৬ ফেব্রæয়ারী শনিবার থেকে পাথর আমদানি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় দেশিয় আমদানিকারকরা। সোনমসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল জানান, প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় আড়াইশ ট্রাক বা ১০ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয় ভারত থেকে সেনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। গত মাসে ২ লক্ষ ৪১ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হওয়ায় সরকার রাজস্ব আয় করে প্রায় ২২ কোটি টাকা। ৭ মাস আগে ভারতের রফতানিকারকরা রকম ভেদে যে পাথরের দাম নিত প্রতি সিএফটি ১৮-২২ রুপি, ২ মাস আগে তা নির্ধারণ করে ২৮-৩০ রুপী। বর্তমানে প্রতি সিএফটির পাথরের দাম নির্ধারণ করে ৩৬-৩৭ রুপী। বর্তমান বাজার মূল্য দিয়ে পাথর আমদানি করে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে আমদানিকারকদের। সে কারণে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিলনা। এতে করে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় আমদানিকারকদের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *