Sharing is caring!

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ গত শনিবার থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দিয়ে বাংলাদেশে পাথর চিপস ও বোল্ডার রপ্তানি স্থগিত রয়েছে। টানা ৪ দিন পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছে স্থলবন্দরের ২ হাজার শ্রমিক। জানা গেছে, ধুলো-বালি ও মাটি মেশানো পাথর না দিয়ে মানসম্মত পাথর দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা ভেস্তে গিয়ে উল্টো নিম্নমানের পাথর আমদানী না করলে আগামী ১৩ ফেব্রæয়ারী থেকে সকল পন্য রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ভারতীয় রপ্তানীকারকরা। সোমবার সন্ধ্যায় মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারন সম্পাদক শ্রী সুকুমার সাহা স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে এ সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। প্রেক্ষিতে রাতেই সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক গ্রæপের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১০ ফেব্রæয়ারী সংকট নিরসনের জন্য ভারতীয় রপ্তানীকারকদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছে বলে সোনামসজিদ আমদানী ও রপ্তানীকারক এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আবু তালেব নিশ্চিত করেন। এদিকে মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ¯^া¶রিত চিঠিতে বলা হয়েছে আপনাদের এক তরফা সিদ্ধাšে—র কারণে গত ৬ ফেব্রæয়ারী থেকে মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাথর চিপস ও বোল্ডার রপ্তানি স্থগিত আছে। যার ফলশ্রæতিতে বাণিজ্যিক ক্ষয়ক্ষতিসহ আইন শৃক্সখলা নিয়ে সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের। অনির্দিষ্টকাল এ অবস্থা চলতে পারে না। অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহনের আবেদন করছি। প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেয়া না হলে আগামী ১৩ ফেব্রæয়ারি থেকে ভারতীয় যাবতীয় পণ্য সামগ্রী রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে-পাথর চিপস ও বোল্ডারের রপ্তানিমূল্য অপরিবর্তিত থাকবে। তবে চিঠিতে দ্বিপা¶িক আলোচনা ও পারস্পারিক মত বিনিময়েরও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশের ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশন, পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সোনামসজিদ শ্রমিক সমš^য় কমিটিকেও। এদিকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রæপের সভাপতি কবিরুল ইসলাম খোকন। তিনি জানান, এই চিঠির মাধ্যমে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এক ধরনের চাপ দিয়েছে তাদের নিম্নমানের পাথর নেয়ার জন্য। তাদের এ চাপ বা হুশিয়ারি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশি আমদানিকারকরা অর্থের বিনিময়ে পাথর নিচ্ছে। ধুলো-বালি বা মাটি মেশানো ব্যবহার অনুপোযোগী পাথর কেন নেবে। তারা যতোই হুমকি দিক না কেন-চাহিদার মতো মানের পাথর সরবরাহের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সোনামসজিদ দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকবে। এদিকে সংগঠনটির সম্পাদক আবু তালেব জানান, অনেকটা ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে তিনি ২ শর্তে ভারতীয় রপ্তানীকারকদের পাথর রপ্তানিতে সম্মত করার চেষ্টা করে ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভারতীয় রপ্তানীকারকরা আবারো বেঁকে বসে। তবে, ১০ ফেব্রæয়ারী তাদের আমন্ত্রনে ভারতীয় রপ্তানীকরকরা তাদের দাবী থেকে সরে আসবে এবং পাথর আমদানি-রপ্তানি নিয়ে সৃষ্টি জটিলতার সমাধান হবে বলে আশাবাদী তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *