Sharing is caring!

ইমরান আলী ও রিপন আলি রকি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি, আর নয় জঙ্গীদের ঘাটি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আর সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারবে না। সন্ত্রাসীরা আর যদি কোন সময় হামলা চালানোর চেষ্টা করে তাহলে পুলিশ কঠোর হাতে সন্ত্রাসীদের দমন করবে। বিগত দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জের চককীর্ত্তি-ত্রিমোহনী এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের বিশেষ সফল অভিযান এর প্রমাণ। তিনি বলেন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ একে অপরের বন্ধু হয়ে কাজ করবে। পুলিশ ও সমাজের নেতৃস্থানীয়দের নিয়ে সমাজ থেকে অপরাধমূলক কর্মকান্ড নির্মুল করার জন্যই কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়। পুলিশি জনতা-জনতাই পুলিশ শ্লোগান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়ে এবং পাশে থেকে সমাজ থেকে মাদক, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বৃহষ্পতিবার সকালে শিবগঞ্জ থানার নবনির্মিত ৪ তলা ভবন উদ্বোধনী পরবর্তী শিবগঞ্জ স্টেডিয়ামে জঙ্গি ও মাদক বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ.কে.এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম এসব কথা বলেন। ভবন উদ্বোধন শেষে থানা চত্বরে একটি গাছের চারা রোপন করেন আইজিপি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম’র সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, ধর্মের নামে যারা অরাজকতা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ও দেশের সম্পদ ধ্বংস করে তারাও সন্ত্রাসী। আইজিপি বলেন, ২০০৬ সালে শিবগঞ্জের জনসাধারণ বিদ্যুতের লোডশের্ডিয়ের হতে মুক্তি পেতে যখন আন্দোলন করছে। সে সময়ের আন্দোলনের মাধ্যমে শিবগঞ্জের মানুষ বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যাপক ভাবে ভোগ করেছে। যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পরই সেই মানুষরা সাঈদী সাহেব কে চাঁদে দেখা একটি মিথ্যা গুজব রটিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে ধ্বংস করে?। পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ভালোবাসেন বলেই শিবগঞ্জে পূণরায় বিদ্যুৎ স্থাপন করে দিয়েছেন। রাজনীতি আন্দোলনের নামে যারা দেশের আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি বিঘœতা ঘটায় তারা দেশকে ভালোবাসে না। তারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর শামিল। আর দেশের অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দেশের আইন শৃক্সখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তা স্বার্থে পুলিশ কঠোর হাতে আইনভাবে সে সব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আইজিপি আরো বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং মানে পুলিশের জবাবদিহিতা। পুলিশ জনতা এক হয়ে কাজ করবে, এটাই কমিউনিটির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা জনসচেনতা গড়ে তোলা। কোন অপরাধীদের সন্ধান পেলে পুুলিশকে সংবাদ দিবে সেই সাথে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে সন্ত্রাসীদের আটক করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর যদি থানার ওসি সাধারণ মানুষের কথা না শুনে, তাহলে এসপি ও ডিআইজিকে জানানোর জন্য বলেন তিনি। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশ জনতা সমন্বয়ে কাজ করবে। থানা দালাল মুক্ত থাকবে। সাধারণ মানুষ সরাসরি থানার ওসির সাথে বিভিন্ন আইনী পরামর্শ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কথা বলবেন। এটাই কমিউনিটি পুলিশিং এর কাজ। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বিপিএম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোহাম্মদ এনামুল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো মঈনুদ্দিন মন্ডল, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিন, সদস্য সচিব সামিউল হক লিটন, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারীবুল হক রাজিন, জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য মোসাঃ হালিমা বেগম। এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান, জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এরফান গ্রুপের চেয়ারম্যান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি ও “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এর প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোঃ এরফান আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সমাজ থেকে মাদক, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দূর করে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *