Sharing is caring!

মাথাব্যাথা নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের

পেটে গজ রেখে সেলাই হওয়া সোখিনা এখনও হাসপাতাল বেডে \ কোন ব্যবস্থা হয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় অবস্থিত ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ ভুল অপারেশনে পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেয়া ভুক্তভোগী সোখিনা এখনও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধিন রয়েছে। কম সময়ের মধ্যেই ছাড়া পাওয়ার কথা বললেও রোগী স্বুস্থ না হওয়ায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধিন রয়েছে সোখিনা। তবে চাঞ্চল্যকর এঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হলেও কোন মাথাব্যাথা নেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা খেলেও স্বাভাবিকভাবেই চলছে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’। কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জীবন বাঁচাতে সহায় সম্বলহীন প্রতিবন্ধী সোখিনার স্বামী মো. তোহরুল ঋণ করেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, সোখিনার গর্ভের শিশু সন্তানটিও মাকে ছেড়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে। এদিকে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নামকাওয়াস্তে রোগীকে দেখতে গিয়ে মাত্র ২ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়েই আর কোন খোঁজও নেয়নি বলে রোগীর স্বামী মো. তোহরুল ইসলাম সুত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে ভূক্তভোগী পরিবার ও জেলাবাসীর মাঝে চরম অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরী সোমবার সকালে খুব দ্রæতই ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় অবস্থিত ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ এ গত ১১ নভেম্বর শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তী ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের মো. তোহরুল ইসামের স্ত্রী প্রসুতি সোখিনার ভুল অপারেশনে পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেয়ায় চরম বিপাকে পড়ে রোগী ও রোগীর পরিবার। এঘটনায় চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে রোগী। অবশেষে গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে রামেক হাসপাতালে অপারেশনে সোখিনার পেট থেকে প্রায় দেড় ফুট ‘গজ’ বের হয়। এঘটনায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ রোগীর স্বজন ও সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অধ্যবধি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধিন সোখিনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী প্রতিবেদককে গত ১১ ডিসেম্বর বলেন, ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ এ সোখিনা নামের এক রোগীর সিজার অপারেশনে ভুল করে পেটের মধ্যে ‘গজ’ থেকে যায়। পরে রামেক হাসপাতালে পুনরায় অপারেশনে সোখিনার পেট থেকে গজ বের হয়। এঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ এর অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। অবৈধভাবে চলা ‘সিটি শাহনেয়ামতুল্লাহ ডায়াগোনিষ্টক সেন্টার’ সিলগালা করে দেয়া হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোন প্রকার ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *