Sharing is caring!

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস: ঘুরে দাঁড়ানোর

সাহস পাচ্ছেন অগ্নিদগ্ধরা

চকবাজার ট্র্যাজেডির বিভীষিকাময় দৃশ্য যেনো কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না নিহতদের স্বজনসহ ভুক্তভোগীরা। গাড়ির সিলিন্ডার থেকে সূত্রপাত হওয়ার আগুনে পুড়ে হঠাৎ করেই যেনো নিভে গেলো ৭০ জন মানুষের জীবন প্রদীপ। যারা উক্ত অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে এখনো বেঁচে আছেন তারা ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। তবে কিছুটা স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে চকবাজারের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিদগ্ধদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারী খরচে অগ্নিদগ্ধদের উন্নত চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আগুনে আহতদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। দগ্ধ প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছেন প্রাথমিকভাবে।’
আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সান্ত্বনা দেন, সেই সঙ্গে দেন পাশে থাকার আশ্বাস।
চকবাজারের আগুনে দগ্ধ রিকশা চালক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম বুঝতে পারছিলেন না, চার সন্তানকে নিয়ে কীভাবে তার সংসার চলবে। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ানোয় তিনি এখন ফিরে পেয়েছেন বেঁচে থাকার সাহস।
ওইদিনের আগুনে আয়নার দোকানের কর্মচারী সেলিম মিয়ার (৪০) শরীরের ১৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, আমাদের চার বছরের একটা মেয়ে আছে। পরের মাসেই আমার সন্তান হবে। এর মধ্যে এমন দুর্ঘটনা। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। অসহায় লাগছিল।
“কিন্তু আজকে প্রধানমন্ত্রী আসছেন। কাছে আইসা বললেন, তোমরা কোনো চিন্তা কইরো না। আমরা তোমাদের পাশে আছি। চিকিৎসার জন্য কোনো চিন্তা কইরো না। সব ব্যবস্থা আমরা করব। অসহায় অবস্থার মধ্যেও মনে এখন সাহস পাচ্ছি।”
শুধু হাজেরা বেগম কিংবা আঁখি বেগমই নন, গত বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় সবাই প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নতুন করে জীবন যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা পেয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *