Sharing is caring!

প্রশ্নফাঁস নামক সামাজিক ব্যাধি থেকে

মুক্তির পথে বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁস একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। বিগত কয়েক বছর এই সমস্যাটা অতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁস এর আশঙ্কা ভর করতো শিক্ষার্থীদের মাথায়। তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবশেষে প্রশ্নফাঁস নামক সামাজিক ব্যধি থেকে মোটামোটি রেহাই পেয়েছে বাংলাদেশ।

শুরুটা গত বছর থেকে। এর আগের বছরগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর থেকে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর অবস্থান নেয় বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলশ্রুতিতে কোনো প্রকার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হয় গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষা। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রশ্নফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস হবার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিশেষ অভিযান চালু রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বিশেষ অভিযানে ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এই বিষয়ে নিজের এবং সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলে আসছিলেন ডা. দীপু মনি। কাজেও পরিণত করেছেন। কারণ, এখন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের কোনো অভিযোগ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে র‌্যাব প্রধান জানিয়েছিলেন, ‘র‍্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তৎপর রয়েছে। প্রত্যেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিংয়ে র‍্যাবের সক্ষমতা রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সাইবার পেট্রোলিং ও আন্ডারকভার অপারেশন চলমান রয়েছে।’

এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতর পরীক্ষার্থী ব্যতীত জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। প্রশ্নফাঁস বন্ধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই প্রশ্নফাঁস নামক সামাজিক ব্যাধি মোটামোটি নির্মূল হয়েছে সমাজ থেকে। রক্ষা পেয়েছে আমাদের শিক্ষাখাত। তবে সমাজ থেকে প্রশ্নফাঁস, নকলের মতো সামাজিক ব্যাধিসমূহ পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সহ শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এসব সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, তবেই সম্পূর্ণ মুক্তি মিলবে এসব ব্যাধি থেকে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *