Sharing is caring!

প্রশ্নফাঁস রোধে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে

জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ

 

আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে শুরু করে পরীক্ষার হল সর্বত্রই বেশ সক্রিয়। যেটা নিয়ন্ত্রণ করাটা বর্তমান সরকারের গত টানা দুই মেয়াদে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে প্রশ্নফাঁস রোধে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তৃতীয় মেয়াদে এসে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে অন্যতম সিদ্ধান্ত হচ্ছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনায় বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ক্ষমতাবলে এমন আদেশ জারি করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা চলাকালীন ও পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ (দুইশত) গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, সরকারের পদক্ষেপ গুলোর কারণে পরীক্ষার আগে থেকেই প্রশ্নফাঁস নিয়ন্ত্রনে আসবে আশা করি। পরীক্ষার সময়ে কেন্দ্রের পাশে থাকার নিষেধাজ্ঞার নতুন এই নিয়মটি করার ফলে হল থেকে প্রশ্ন বাইরে যাওয়ার আরে কোনো সুযোগ থাকছে না।
এবারের পরীক্ষায় মোট ৪ হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৭ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ১০ হাজার ২৭২ জন এবং কারিগরিতে অংশ নেবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২ জন।

এর আগে প্রশ্নফাঁস রোধে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঠিক কোন সেটের প্রশ্নপত্রে হবে তা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রে জানানো হবে। যেখানে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব এবং পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও স্বাক্ষরে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্রের মোড়ক খুলতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে নেওয়া ও মোড়ক খোলার বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়, ট্রেজারি বা নিরাপত্তা হেফাজত থেকে এমসিকিউসহ রচনামূলক বা সৃজনশীল বিষয়ের সব সেট প্রশ্নই পরীক্ষার কেন্দ্রে নিতে হবে। কোন সেটে পরীক্ষা হবে, তা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হবে। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সেটে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময়ের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে আরেকটি পরিপত্রে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই সব পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসতে হবে। তবে অনিবার্য কারণে কোনও পরীক্ষার্থী উল্লেখিত সময়ের পর কেন্দ্রে গেলে রেজিস্টারে তাদের নাম, ক্রমিক নম্বর ও দেরি হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। কেন্দ্র সচিব দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে জানাবেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে আরেকটি পরিপত্রে বলা হয়, কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে কেন্দ্র সচিব নিজে ‘ছবি তোলা যাবে না ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাহীন’ একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত ফোন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *