Sharing is caring!

পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চাই চায়ের

দোকানে থাকা শিবগঞ্জের শাকিল

♦ স্টাফ রিপোর্টার 

কথাই বলে, “ইচ্ছা থাকলেই, উপায় হয়”, ইচ্ছা শক্তি ও অটুট বিশ্বাস থাকলে মানুষ পারে না এমন কাজ নেই। আর ভালো কাজে আল্লাহ তায়ালাই সফলতা এনে দেন। কাজ করলে কাজের মুল্যায়নও হয়। এমনই বাস্তব সম্ভবটাই করে দেখিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চৌধুরী পাড়ার দরিদ্র পরিবারের সন্তান সাকিল। পৌর এলাকার চা বিক্রেতা সেতাউর রহমান ও গৃহীনি মনোয়ারা বেগমের ছেলে শাকিল। শাকিলের বাবার চায়ের দোকান শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। সেখানে বাবাকে রীতিমত সাহায্য করার পরও সে খেলাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং মেধা সম্পন্ন সাকিল ২০১৮ সালে শিবগঞ্জ সবুজ কানন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে উত্তীর্ণ হয়েছে শাকিল। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চৌধুরী পাড়ার চা বিক্রেতা দরিদ্র সেতাউর রহমান পরিবারের সন্তান সাকিল। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোট। দশ বছর যাবৎ বাবা চা বিক্রি করেই সংসার চালান সেতাউর রহমান। অর্থাভাবে বেতন দিয়ে চায়ের দোকানে লোক রাখতে না পারায় ছেলে শাকিলকে দিয়েই প্রয়োজন মেটাতে হয় বলে জানান শাকিলের বাবা সেতাউর রহমান। তিনি জানান, সকালে স্কুল করে বিকেলে চা বানানো ও বিক্রির কাজে সহযোগীতা করে শাকিল। মেধা সম্পন্ন সাকিল ২০১৮ সালে শিবগঞ্জ সবুজ কানন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এতে এলাকার সকলকেই বিষ্মিত। বাবার চায়ের দোকানে সময় দিয়ে, কোন প্রাইভেট না পড়েই স্কুলের শিক্ষকদের দেয়া শিক্ষা দিয়েই পরীক্ষা দিয়ে সে এ ফল অর্জন করেছে। বর্তমানে সাকিল শিবগঞ্জ রয়েল স্কুল এন্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। নিজের এই অদম্য মেধাকে কাজে লাগাতে চায়। বড় হয়ে সে দরিদ্র বাবা-মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চাই। সাকিল সকলের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করেছেন। সাকিল আরো জানান, লেখাপড়া করে আমি বড় হতে ইচ্ছুক। বড় চাকুরি করে যেন ভালোভাবে মা-বাবার সেবা করতে পারি। আমার বাবার সামান্য চা বিক্রির টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তবুও বাবা কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছেন আমাকে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *