Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ “সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্ব›দ্ব চরমে, দূর্ঘটনার আশংকা” শিরোনামে ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্থলবন্দরে শুরু হয় তোলপাড়। নানা গুঞ্জনের পর বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিক সমš^য় কমিটির নেতৃবৃন্দ নড়ে চড়ে বসেন। শ্রমিক সমš^য় কমিটির নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে চাঁদাবাজির টাকার যে ভাগ দিতো স্থানীয় যুবলীগ, ¯ে^চ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামীলীগকে, সেটা বন্ধ করে দেয়। এসব ঘটনা নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ। যুবলীগের দু’গ্রæপের মধ্যে টাকার অংশ নেয়া নিয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলার উপর মহলের নেতৃবৃন্দের ইশারায় এই ব্যবস্থা বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রয়েছে ৩১টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত শ্রমিক সমš^য় কমিটি। এই সমš^য় কমিটির নেতৃত্বে স্থলবন্দরে চলছে চাঁদাবাজির মহা উৎসব। এই টাকা দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে উত্তেজনার কারণে অবশেষে তা বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক সমš^য় কমিটি। জানা গেছে, বন্দরে ৩১টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত শ্রমিক সমš^য় কমিটির নেতৃত্বে স্থলবন্দরে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজির অংশ ভাগবাটোয়ারা হতো স্থলবন্দর শাখার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও সেচ্চাসেবকলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে। চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগের দু’গ্রæপে দ্ব›েদ্বর কারণে মূলত এই চাঁদাবাজির টাকার অংশ বন্ধ করে দেয় শ্রমিক সমš^য় কমিটি। গেল মে মাসের প্রথম দিয়ে শ্রমিক সমš^য় কমিটির বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও চাঁদাবাজির টাকা অংশ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে’ এমন সংবাদ প্রকাশিত হয় “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এ। এরপর গত বুধবার আবারো সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্ব›দ্ব চরমে \ দূর্ঘটনার আশংকা “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” এ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপর তোলপাড় শুরু হয় স্থলবন্দর জুড়ে। ফলে স্থানীয় যুবলীগের দু’গ্রæপে দ্ব›েদ্বর কারণে দেখিয়ে চাঁদাবাজির ভাগ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
এব্যাপারে ২০০৪ সালে গঠিত যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিক সমš^য় কমিটি আমাদের অফিস খরচ হিসেবে যে টাকা বৃহষ্পতিবার আনতে গিয়ে আমরা খালি হাতে ফেরৎ আসি। সেখান থেকে ফিরে এসে আমরা আবারো গোলাম রাব্বানী এমপি মহাদয়ের ছেলে শিশিরকে জানাই। তিনি আমাদের বলেন, এখন তো এমপি মহাদয় নাই, তাই এসব বন্ধ থাক। এমপি মহাদয় আসলে বসে আলোচনা মাধ্যমে সব সমাধান করে দেয়া হবে। এখন স্থলবন্দরে কেউ হট্টোগোন্ডগোল সৃষ্টি করবেন না। লুৎফর রহমান বলেন, শিশিরে কথা শুনে আমরা এখন এমপি মহাদয়ের আসার অপেক্ষা করছি। এদিকে স্থলবন্দর শাখা আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, যুবলীগের দ্ব›েদ্বর কারণে এই বন্দরের তিন সংগঠনকে শ্রমিক সমš^য় কমিটি টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, কমিটির মেয়াদ দীর্ঘদিন পূর্বেই শেষ হলেও স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের সভাপতি দাবিদার আখিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমি যুবলীগের সভাপতি হয়ে আছি। বর্তমানে আমিই সভাপতি। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নাই। আমাদের যুবলীগের অফিস আছে। আর যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করবে তা আমি হতে দিবোনা। তিনি আরো বলেন, আমি শুনেছি শ্রমিক সমš^য় কমিটির যে চাঁজাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দিতে তা এখন বন্ধ করে দিয়েছে। যদি তাই হয়, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ, আমার যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করবে তা হতে দিবো না। তাদের চাঁদাবাজির কারণে আমাদের গোলাম রাব্বানী এমপি মহোদয় ও সরকারের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই এসব চাঁদাবাজি বন্ধ করা অতি জরুরি। তিনি আরো বলেন, আমাদের গোলাম রাব্বানী এমপি মহাদয় ও সরকারের মানসম্মান যেনো ক্ষুন্ন না হয়, সে জন্য আমি এই বন্দরে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দিবোনা। এদিকে, কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার জানান, আমাদের অফিস থেকে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনকে অফিস খরচ হিসেবে যে টাকা দেয়া হতো, তা আজ বৃহষ্পতিবার বন্ধ করে দিয়েছি। কেনো বন্ধ করে দিয়েছেন, এমন প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, যুবলীগের মধ্যে দ্ব›েদ্বর কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যুবলীগের নেতাকর্মীদের বলেছি, আগে তোমাদের দ্ব›দ্ব মিটাও, তারপর আবার বিবেচনা করবো। যদি তোমাদের দ্ব›দ্ব মিটাতে না পারো, তাহলে আর কখনো অফিস খরচ আমাদের কাছ থেকে পাবে না।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *