Sharing is caring!

ফল উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের

এক যুগ আগেও বাংলাদেশে ফল ছিল আমদানি নির্ভর। ফল বুঝতে দেশের মানুষ আম, জাম, কাঠাল, লিচু ও তরমুজকেই বুঝতো। মৌসুম শেষ হয়ে গেলে এই ফলও আর সেই মৌসুমের বাইরে পাওয়া যেত না। এছাড়াও মৌসুমী ফলের পরিমাণও ছিল খুবই স্বল্প পরিমাণে। দিন বদলে গেছে। বাংলাদেশ এখন আর আগের অবস্থায় নেই। যে ফলগুলো আগে শুধুমাত্র একটা মৌসুমকে কেন্দ্র করেই পাওয়া যেত এখন সেই ফলগুলো বারো মাসই পাওয়া যাচ্ছে।

গত এক দশকে বাংলাদেশে ফল উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন এসছে। দেশটি আয়তনে ছোট হলেও এই ফল উৎপাদনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বড় বড় দেশকেও পেছনে ফেলে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। বাংলাদেশে আগেও আম ও কাঠাল ছিল প্রধান ফল। যেখানে আগে বছরে ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ হতো সেখানে এখণ ৭২ প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে আম উৎপাদনে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। সামগ্রিকভাবে ফল উৎপাদনে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২৮ তম।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মতিয়া চৌধুরী জানান, ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৫ প্রজাতির ফলের ৮৪টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৪ প্রজাতির ফলের ৮৪টি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫ প্রজাতির ফলের ৭টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর থেকে ফলের ২ প্রজাতির ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় মোট ৭২টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল, যার
অনুকূলে মোট বরাদ্দ ছিল ১৮০৬.৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১৪৪৮.৩৯ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩৫৮.৫০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ১৭৭৫.৭৮ কোটি টাকা, যা মোট সংশোধিত এডিপি বরাদ্দের ৯৮.৩০ শতাংশ। এর মধ্যে জিওবি খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৯.০৩ শতাংশ এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ব্যয় ৯৫.২৬ শতাংশ। বর্তমান অর্থবছরে জাতীয় গড় অগ্রগতি (৯৪.২৩%) অপেক্ষা এ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি বেশি হয়েছে।

গত দশ বছরে দেশে আম উৎপাদনে দ্বিগুণ, পেয়ারা দ্বিগুণেরও বেশি, পেপে আড়াই গুণ ও লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফলগুলো বেড়েছে চোঁখে পড়ার মতো। শুধু ফল উৎপাদনেই নয়, বাংলাদেশের মানুষ এখন ফল খাওয়াও বাড়িয়েছে। আগে দেশের মানুষ ৫৫ গ্রাম ফল খেত সেখানে দেশের মানুষ এখন ৮৫ গ্রাম করে ফল খায়। আগে যেখানে মানুষ বছরে ফল হিসেবে বিশেষ করে আম ও কাঠাল খেত সেখানে এখন আম ও কাঠাল বাদেই ২২ প্রজাতির ফল খায়। বেশ কয়েকবছর আগেও বিদেশ থেকে আমদানিকারকরা ড্রাগন ও অ্যাভোকাডো ফল আমদানি করতো। বর্তমানে এই ফল দেশেই চাষ হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করার ফলে এই ফলের দাম থাকতো আকাশ ছোঁয়া। দেশে উৎপাদনের কারণে এই ফলের দাম অনেকাংশেই কমে গিয়ে এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই চলে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *