Sharing is caring!

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে

নেয়া হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ

দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ। আগামী বছরের ১৭ মার্চ সেই কাঙ্খিত দিন। স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হবে সেদিন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালীর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে নেয়া হয়েছে বছরব্যাপী বিশাল পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে নানা প্রস্তাবনা। সেসব প্রস্তাবে প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের আয়োজনে। অনুষ্ঠিত হবে বছরব্যাপী সেমিনার। লন্ডন ও সিঙ্গাপুরে মাদাম তুসো জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

আগামী বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও ঢাকা লিট ফেস্ট উৎসর্গ করা হবে জাতির জনকের প্রতি। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য সব ক্রীড়া আয়োজন উৎসর্গ করা হবে বঙ্গবন্ধুকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ মুজিবকে নিয়ে আলোচনাসভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের কথা উঠেছে। শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ দেশের সকল স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বছরব্যাপী আয়োজনে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে তৈরি হবে থিম সং। থিম সং রচনা ও মুজিব বর্ষের লোগো নির্ধারণের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়ার পরিকল্পনা চলছে।  মুজিববর্ষের বিশাল আয়োজন প্রসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবাযন কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা আসছে। এগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাগুলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তরূপে গ্রহণ করা হবে। আটটি উপকমিটিই তাদের মতো করে পরিকল্পনা পেশ করেছে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কাছে। কিন্তু এর কোনটিই এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে বৈঠক চলছে। প্রস্তাবিত আয়োজনগুলোর মধ্য থেকে সেরাগুলোকেই কমিটি বেছে নেবে। পরবর্তীতে জাতীয় কমিটি সেটি অনুমোদন দেবে।

মুজিববর্ষে দশটি বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকবেন দেশের প্রখ্যাত দশজন শিল্পী। এই দশ শিল্পীর নেতৃত্বে আবার কাজ করবেন ৫ থেকে ছয়জন শিল্পী। আট ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের ভিন্ন আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে উদ্ভাসিত হবেন বঙ্গবন্ধু। প্রতিটি ছবিতেই ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আঁকা হবে শেখ মুজিবকে। এই দশটি ছবি যেন হাজার বছর টিকে থাকে সেজন্য ক্যানভাসসহ রঙের প্রয়োগে দেয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। ছবিগুলো আঁকা হয়ে গেলে সেগুলোকে স্থায়ীভাবে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতি জাদুঘরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে নিসার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছি। এগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বাজেটের ওপর। প্রাথমিকভাবে বাজেট ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী জমকালোভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিনই জমা পড়া পরিকল্পনা নিয়ে কাঁটাছেড়া ও বিশ্লেষণ করছে সরকার গঠিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবাযন কমিটি’। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মুজিব বর্ষ উদ্যাপনের মূল পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’র পরামর্শে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *