Sharing is caring!

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) সম্প্রতি অনুমোদন দেওয়া হলো বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ডেল্টা প্ল্যান। প্রকল্পটির মূল প্রতিপাদ্য জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।

বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের অঞ্চলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে ছয়টি অঞ্চলে। এগুলো হচ্ছে—উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী ও মোহনা অঞ্চল এবং নগরাঞ্চল। একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাগুলো থাকছে একেকটি গ্রুপের আওতায়। এসব হটস্পটে চিহ্নিত করা হয়েছে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মাত্রা।

এছাড়াও বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ‘ডেল্টা তহবিল’। তহবিলের সম্ভাব্য উৎস বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত তহবিল। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিকেও (পিপিপি) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ‘ডেল্টা কমিশন’। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭৮২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল নাগাদ জিডিপির ২.৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থায়ন দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করাও দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মত্স্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প, বনায়নসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় রেখে এই সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। উৎপাদন শক্তি না কমিয়ে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, শহরাঞ্চলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা, বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আছে বদ্বীপ পরিকল্পনায়।

দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন করা হবে। বদ্বীপ পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, বন্যা, নদীভাঙন, নদী শাসন, নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামোসংক্রান্ত। বাকি ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বদ্বীপ পরিকল্পনা হবে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পথনকশা—এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *