Sharing is caring!


মোহাঃ ইমরান আলী, শিবগঞ্জ থেকে \ সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা জাতীয় শ্রমিকলীগের নাম ভাঙিয়ে স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটির বেপরোয়া চাঁদাবাজি এখনো চলছে। এই বন্দর শ্রমিকদের ঘামঝরা টাকায় ভাগ বসাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আর খরচের নামে এই ভাগ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য শ্রমিক নেতাদের কাছে তদবির করেন উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলীয় কর্মীদের খরচ জোগাতে এই ভাগ দেয়ার জন্য তদবির করলেও ভাগের টাকা নিয়ে হচ্ছে দলীয় খরচের বদলে ভাগবাটোয়ারা। দলীয় কর্মীদের খেসারত দিতে গিয়ে নায্য মুজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শ্রমিকরা। এসব ঘটনা নিয়ে বন্দরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, সাধারণ শ্রমিকদের প্রাপ্ত মুুজুরি না দিয়ে স্থলবন্দর এলাকার স্থানীয় দলীয় নেতাদের ভাগ দিচ্ছে বলেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান রহমান মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোবারক হোসেন নিজেদের চেয়ার ঠিক রাখতে শ্রমিকদের নায্য মুজুরি বুঝিয়ে না দিয়ে, দলীয় নেতা-কমীদের হাতে প্রভাবশালী নেতাসহ স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন অংশে চাঁদাবাজির টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। এব্যাপারে জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখার আওয়ামীলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ (নব্য আওয়ামীলীগ নেতা) কে দেয় আড়াই শতাংশ, যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দেয় সাড়ে ৪ শতাংশ ও সেচ্চাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনকে দেয় সোয়া ৩ শতাংশ। চাঁদাবাজির টাকার ১০০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাকাংশ দেয় এই তিন সংগঠনকে। চাঁদাবাজির টাকার ভাগ বাটোয়ারা হয় সপ্তাহে ৩ দিন। রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহষ্পতিবার। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবলীগ নেতা বলেন, বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এই স্থলবন্দরে যে ৩১টি শ্রমিকদের বেসিক ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল এতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দিয়েছে। ওই ৩১টি শ্রমিকদের বেসিক কমিটি দীর্ঘদিন হওয়ার পরও নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়নি। বর্তমানে তা বহাল রয়েছে। আর এই ৩১টি শ্রমিকদের বেসিক ইউনিয়ন নিয়ে ৬২ সদস্যে গঠিত শ্রমিক সমš^য় কমিটি। অথচ সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার দাবি করছেন আমার এই কমিটিতে কোন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী নেই। সূত্রটি আরো বলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগ একটাই সংগঠন। কিন্তু স্থলবন্দরে ৩১টি সংগঠিত নিয়ে গঠিত শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি দাবি করেন তারাই নাকি শ্রমিক লীগ। সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটির চাঁদাবাজির কারণে স্থলবন্দর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহর্তে বড় ধরণ দূর্ঘটনার হতে পারে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। চাঁদাবাজির ভাগ বাটোয়ারা টাকা পান কি-না তা জানতে চাইলে আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি হারুন অর রশিদ (সুবিধাবাদি ও নব্য নেতা) কোন মন্তব্য না করে তার অফিসে দেখা করতে বলেন। অপরদিকে যুবলীগের নেতা লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের অফিস খরচ বাবদ কিছু টাকা দেয় শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার। অন্যদিকে সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের অফিস খরচ বাবদ কোনদিন ৫ হাজার, কোনদিন ৭ হাজার টাকা করে দেয়। এদিকে, সোনামসজিদ স্থলবন্দ শ্রমিকলীগ দাবিদার শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার বলেন, আমার সংগঠনের নাম সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগ। স্থলবন্দরের ৩১টি শ্রমিক বেসিক ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ওই ৩১টি বেসিক ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এই কমিটির সদস্য রয়েছে। তার মধ্যে সিএন্ডএফ সভাপতি ও আওয়ামলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ এই কমিটির সদস্য। কিন্তু কার্যকরী পরিষদের কোন পদে নাই। শ্রমিকদের আয়ের টাকা স্থলবন্দরের দলীয় নেতাদের দেন কেন, এমন প্রশ্লোত্তরে সাদেকুর রহমান মাস্টার বলেন, আমাদের উপজেলার সর্বোচ্চ অভিভাবক আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে দেয়া হয় দলীয় অফিস চালানো জন্য। তবে তিনি দাবি করেন, ওই তিন সংগঠনকে শতাংশ হিসেবে নয়, অনুদান হিসেবে দেয়া হয়। শ্রমিকদের আয়ের টাকা থেকে এই তিন সংগঠনকে অনুদানের নামে চাঁদার টাকা প্রতিদিন দিতে কেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন না দিলেও হয়, তবে আমাদের অভিভাবকের কথা চিন্তা করে তাদের দিতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *