Sharing is caring!

বিএনপির ‘২০০১ নির্বাচনী ইশতেহারের’

৮০ শতাংশই বাস্তবায়ন হয়নি

সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। দেশের ভোটারদের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে সামনে রেখে এরইমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণার মাঠ। যেসকল দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য জয় এনে দেয়ার মতো প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রতীক পাওয়ার পর প্রচারণার মাঠে নেমেছে। জনগণের দোরগোড়া স্বশরীরে পৌছে নিজে ও তার দল ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের জন্য কোন কোন কাজগুলো করবে সেগুলোর অঙ্গীকারও দিচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে  মঙ্গলবার ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গত ১০ বছর ধরে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট। আর এ সময়টিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ.লীগ সরকার বাংলাদেশকে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশের যোগ্য করে গড়ে তুলেছে। দলটির ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে এসেছে। একই সাথে আসন্ন নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য রেখেছে ‘গ্রামকে শহরের রূপে গড়ে করা’।

অপর দিকে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরামের নেতা ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গতকাল সোমবার নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করেছে গণমাধ্যমে। যদিও তাদের এই ইশতেহারে নতুন কোনো বিষয়ের উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন না নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং বিগত সময়গুলোতে নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন আন্দোলনের বিষয়বস্তুকে পুঁজি করে ঐক্যফ্রন্টের এ ইশতেহার।

যদিও ক্ষমতায় যায় তবে, ঐক্যফ্রন্টের এই ইশতেহারের বিষয়বস্তুগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট অনস্থা দেখিয়েছেন সাধারণ ভোটরা। ভোটারদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, মূলত ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি থাকার কারণেই ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের মনে এমন অনাস্থা।

দুর্নীতিতে জর্জরিত বিএনপিকে নিয়ে গড়া ঐক্যফ্রন্টের এবারের ইশতেহারের ঠিক কতটুকু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আছে সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

প্রায় ১০ বছর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। সে নির্বাচনে আ.লীগের কাছে ভরাডুবি হয় বিএনপির। তবে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছিলো বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। আর ঐক্যফ্রন্টের এবারের ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের সন্দেহের বিষয়িটি এখানেই। কারণ বিএনপি তাদের সর্বশেষ ক্ষমতার মেয়াদে দেয়া ইশতেহারে মাত্র ২০ শতাংশের মতোই বাস্তবায়ন করেছিল।

দলটির প্রধান থেকে শুরু করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা দুর্নীতিতের আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় সেবারে তাদের দেয়া ইশতেহারের ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিএনপি। এই দুর্নীতির দায়েই দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বর্তমানে জেলে রয়েছেন।

কী ছিলো বিএনপির ২০০১-এর ইশতেহারে?

২০০১ এর অক্টোবরের নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ঢাকায় তার দলের পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। যাতে ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলেও বাস্তবিক অর্থে সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি শতকরা ৮০ শতাংশও।

০১/ সংসদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো।  কিন্তু ৫০০ আসনের সংসদ হয়নি।

হয়নি।

০২/ প্রবাসী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও তৈরি পোশাক শিল্প মন্ত্রণালয় গঠন. কিন্তু তা গঠন হয় নি ।

০৩/ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশন প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করেনি।

০৪/ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিদের সম্পদের হিসাব দেয়া হয়নি।

০৫/ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ হয়নি।

০৬/ রাষ্ট্রায়ত্ত রেডিও টিভির স্বায়ত্বশাসন হয়নি।

০৭/ স্থায়ী পে-কমিশন হয়নি।

০৮/ গঙ্গার পানি চুক্তি পরিবর্তন হয়নি।

০৯/ পার্বত্য চুক্তির নতুন সমাধান হয়নি।

১০/ জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও গ্রাম সরকার গ্রাম সরকার হয়েছিলো।

১১/ ইন্টারনেট ভিলেজ হয়নি।

১২/ সবার জন্য বিদ্যুৎ হয়নি

১৩/ সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ হয়নি।

১৪/ কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় যথাসম্ভব হ্রাস করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও দ্রুত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলকে মাঠে প্রয়োগের ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

১৫/ সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের দিকে অধিক জোর দেয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

১৬/ বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হয়।

১৭/ নারীদের ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ে আগ্রহী ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মে নিয়োজিত নারীদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ প্রদান করা এবং চাকরিতে নারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি।

১৮/ পরিবেশ রক্ষায় বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার তাদের শাসনামলে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার এবং দুই স্ট্রোক বেবিট্যাক্সি নিষিদ্ধকরণ, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সফল হয়নি।

১৯/ যুদ্ধাহত ও দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা, দরিদ্র ও নিঃস্ব নারী-পুরুষ-শিশু এবং অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়নি।

২০/ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গভীরতর করা এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিষ্ঠার সাথে রক্ষার নীতিতে অবিচল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সকল অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং সে সময়ে জঙ্গিবাদে দেশের সাধারণ মানুষ পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে।

২১/ অনগ্রসর পাহাড়ি ও আদিবাসী জনগণের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা, চাকুরী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রমে খুব একটা জোর দেয়া হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *