Sharing is caring!

Rajshahi_Mango_01_286239415

চলতি বছরের ৫ জুন পর্যন্ত রাজশাহীতে গাছ থেকে আম পাড়া ও বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। এতে আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আমচাষিরা। তবে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষের মধ্যে আমে ফরমালিন আতঙ্ক রয়েছে। এতেই বেশ ক্ষতি হয়েছে চাষিদের। নিষেধাজ্ঞার জন্য নয়। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশ কয়েকটি আমবাগান ঘুরে এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।  রাজশাহীর কয়েকজন আমচাষি জানান, এবারের গরমে তাপমাত্রা বেশি থাকায় সব ধরনের আম আগে পেকে গেছে।  কিন্তু বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ থাকার কারণে তা বাজারে তোলা যায়নি। তারা বলছেন, ৫ জুনের পর থেকে এক সাথে সব আম বাজারে তোলায় এবং সব ধরনের আম আসায় বাজার মূল্য কমে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকার আমচাষি মো. মকিম বলেন,  আমের জাতের ধরণ অনুযায়ী মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আম পাকা শুরু হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওই সময় থেকে আমরা আম বাজারে বিক্রি করতে পারিনি।  ‘এ কারণে চলতি বছর আশানুর‍ূপ দামের থেকেও কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে। যা লাভের তুলনায় প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ কম,’ বলেন তিনি। কানসাট ইউনিয়নের বাঁশবাড়ী মোড় এলকার আমচাষি মো. শফিক বলেন, গরমের কারণে অনেক আম পেকে গাছ থেকেই পরে নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে মূল্য কম তো আছেই। এরমধ্যে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে লস গুনতে হচ্ছে আমাদের। জেলার  শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আরও কয়েকজন আমচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর হিমসাগর আম মণ প্রতি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা করে, যা এ বছর বিক্রি হচ্ছে ১হাজার ৮শ থেকে ২ হাজার টাকায়। গোপালভোগ গত বছর ২ হাজার থেকে ৩ হাজার এ বছর  ১ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ল্যাংড়া গত বছর ২ হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার ৮শ টাকা এ বছর ১ হাজার ২শ টাকা থেকে ১ হাজার ৩শ টাকা, আশ্বিনা গত বছর ১ হাজার ২শ থেকে ২ হাজার এবছর ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা,  ফজলি গত বছর ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং লখনা গত বছর বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২শ থেকে ২ হাজার টাকা করে। আর এ বছর যার ম‍ূল্য পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫শ থেকে ১ হাজার ৮শ টাকা করে। তবে গত বছর কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের প্রভাবে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো সে কারণেও এ বছর আমের দাম কমে গেছে বলে মনে করছেন অনেক কৃষক। গত মৌসুমের শুরুতেই রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম পেড়ে তাতে কেমিক্যাল ও ফরমালিন দিতে শুরু করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক থেকে আম নামিয়ে তা ধ্বংস করে প্রশাসন। এরপর রাজশাহীর স্থানীয় প্রশ‍াসনের পক্ষ থেকে ‘কেমিক্যাল ফল পাকানো রোধে জেলা পর্যবেক্ষণ কমিটি’ গঠন করা হয়। এ বছরও যেন আমচাষিরা এ ধরনের কাজ না করতে পারে সে কারণেই ৫ জুন পর্যন্ত আমপাড়া ও বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় গুটি আম পাড়া বা বাজারে বিক্রির উপর কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে ল্যাংড়া, আশ্বিনা এসব আমের ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত বছর যারা অপরিপক্ক আম পেড়ে কেমিক্যাল ব্যবহার করে সময়ের আগেই বাজারে বিক্রি করেছেন এ বছর তারাই ক্ষতির মুখে পরেছেন বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। এ ধরনের সিদ্ধান্তে সুফল কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারের এখন শতভাগ নিশ্চয়তার সঙ্গে আম বিক্রি করা হচ্ছে। কারণ ল্যাংড়া, আশ্বিনা এমন জাতের আম মে মাসে পাকে না। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার কারণে এখন পাকা আমই বাজারে আসছে এবং সবাই নিশ্চিতভাবেই আম কিনতে পারছে। ‘এবার আমচাষিদের ক্ষতি হওয়ার কারণ ফরমালিন আতঙ্ক’ এমন ধারণা করে রাজশাহী জেলার কৃষি অধিদপ্তদরের উপ-পরিচালক মো. হজরত আলী বলেন, গতবছর ক্ষতিকারক কেমিক্যালের সাহায্যে কাঁচা আম পাকিয়ে তাতে ফরমালিন মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়েছে। যার প্রভাব মানুষের মধ্যে এবছরও রয়ে গেছে। তবে সে ক্ষতির পরিমাণও ১০ শতাংশের বেশি নয় বলে দাবি করেন তিনি। হযরত আলী এও বলেন, এ বছর ফরমালিনমুক্ত আম নিশ্চিত করতে রাজশাহীতেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটউট (বিএসটিআই) আম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এখান থেকে যেসব আমের ট্রাক সারাদেশে যাচ্ছে সেসব ট্রাকে প্রতিটি ট্রাক ড্রাইভারকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই ফরমালিনমুক্ত আম বাজারে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *