Sharing is caring!

chana-bhaiচাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমান (ছানা)’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বজলুর রহমান এর লাশ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে এসে সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে নামে। সেখান থেকে তাঁর মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের গোয়ালপাড়া মহল¬ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জেলার কৃতি সন্তানকে একনজর দেখার জন্য ভীড় জমায়। বিকেল সাড়ে ৪টায় খালঘাট সেন্ট্রাল গোরস্থানে নামাজে জানাযা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ মো. এনামুল বারী, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মইনুদ্দীন মন্ডল, এরফান গ্রæপের চেয়ারম্যান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব এরফান আলী, বিচার বিভাগের বিভিন্নস্তরের বিচারকগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জেলার বিশিষ্ট জনেরা এবং সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য, বজলুর রহমান শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভ‚গছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা ১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের গোয়ালপাড়া মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইউনুস বিশ্বাস এবং মাতা মরহুমা বাদেনুর নেসা। তিনি ১৯৭০ সালে নবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ১৯৭২ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। মেধাবী ছাত্র বজলুর রহমান ছানা ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে ঔঁৎরংঢ়ৎঁফবহপব বিষয়ে ¯œাতক (সম্মান) এবং ১৯৭৭ সালে একই বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকেও তিনি ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম সাবেক ছাত্রনেতা বজলুর রহমান ছানা ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি তৎকালীন নবাবগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগ ও আশির দশকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিলেন। ১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন এবং সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসনামলে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯-৮০ সালে বিবর্তনমূলক আটকাদেশে কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালের বিশেষ সামরিক শাসনামলে সামরিক আদালতে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। পরবর্তীতে ছাত্র গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সামরিক জান্তা মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর ঢাকার ধানমন্ডি ল’কলেজে আইনের শি¶ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ঢাকার জজ কোর্ট এবং ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং ১৯৯৯ সালে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে তিনি প্রচুর সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোট, হাইকোর্ট বিভাগের একজন সম্মানিত বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *