Sharing is caring!

সফিকুল ইসলাম, গোদাগাড়ী থেকে \ জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এ তা আরও দূর্বিসহ করে তুলেছে। গোদাগাড়ীতে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে রোজাদারদের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। দিনে রাতে অসংখ্যবার লোডশেডিং এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই এলাকায় ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবারহ করা হলেও ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬ মেগাওয়াট। এতে করে রাত দিনের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিং পোহাতে হয় গোদাগাড়ীবাসীকে। এই দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে চায় গোদাগাড়ীবাসী। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ তারাবির নামাজে দাঁড়িয়ে কাহিল হয়ে পড়ছেন। শুধু নামাজে নয়, ভোররাতে সাহরি খাওয়ার সময়েও বিদ্যুতের ভেলকিবাজী চলতেই থাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিকরাও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি থাকাই লোকসানের আশঙ্কায় মহা চিন্তিত। ৪ ল¶াধিক জনবসতিপূর্ণ গোদাগাড়ীতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দিনরাত সমানতালে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে দীর্ঘ¶ণ বিদ্যুৎ না থাকায় বৃদ্ধ ও শিশুরা আরো বেশী অসহায়  হয়ে পড়ছেন। জনজীবনে বিদ্যুৎতের যখন এই অবস্থা, তখন গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে সহকারি প্রকৌশল আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুৎতের উৎপাদন ঘাটতি থাকাই আমরা বিদ্যুৎ ঠিকমত সরবরাহ দিতে পারছিনা, আমাদের ইচ্ছে থাকা সত্তে¡ও কিছুই করাই নেই। তিনি জানান, গোদাগাড়ী উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৯ মেগাওয়াট, কিন্তু আমরা পাচ্ছি পোনে ৩ কিংবা ৩ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের এই বিশাল ঘাটতি থাকাই আমাদের বিভিন্ন দিকের লাইন টেনে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারেরর বিদ্যুতের উন্নয়নের একদিকে যখন সফলতার কথা শুনা যাচ্ছে, আর অপরদিকে যখন বিদ্যুতের ঘাটতি বলা হচ্ছে, তখন সাধারণ জনগণ সমালোচনায় মুখরিত হচ্ছে। অব্যাহত বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এখন নিজ¯^ ব্যবস্থাপনায় জেনারেটর বা চার্জার লাইট দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছেন এ যেন, ‘দুধের সাধ ঘোলে’ মেটানো। এলাকা ভেদে প্রতিদিনই কয়েকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং বর্তমানে রুটিনে পরিণত হয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও চলছে সমালোচনার ঝড়। গোদাগাড়ী পৌর এলাকার লালবাগ মহল্লার ডাঃ রফিক বলেন, এমনিতেই বিদ্যুৎ তো যাচ্ছেই, যখনই নামাজের জামাতে দাঁড়ানো হচ্ছে, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এর সঠিক কারন কি তা খুঁজে পাচ্ছি না। আবার কোনো কোনো সময় বিদ্যুৎতের ভোল্টেজও থাকে না বলে অভিযোগ করেন। অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া পর দীর্ঘ¶ণ না আসার কারণে যখন গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ অফিসের টেলিফোন নম্বরে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়, তখন তারা জনগণের সাথে খারাপ ভাষায় কথাও বলে। আবার তারা কৌশলে বেশির ভাগ সমই টেলিফোনের রিসিভার তুলে রেখে দেয়, যাতে করে তাদের সাথে কেউ যোগাযোগ না করতে পারে। এব্যাপারে গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ অহিদুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা ৯ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হচ্ছে ৩ মেগাওয়াট। এর ফলে ঠিকভাবে বা নিরচিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কি করব বলুন। প্রতিদিনই যে পরিমান বিদ্যুৎ পায়, সেটুকুই গোদাগাড়ীর গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *