Sharing is caring!

মোহাঃ ইমরান আলী ও রিপন আলি রকি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন। এটি দেশের সীমান্তবর্তী হওয়ার অনেকের নজরে পড়ে না। এই ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। ইউনিয়নটি সামান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় প্রায় প্রতিটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট তেমন উন্নয়ন হয়নি। এই ইউনিয়নের প্রায় গ্রাম পরিদর্শন করে দেখা গেছে, রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। অত্র ইউনিয়নের জমিনপুর, কিরণগঞ্জ, খোন্দা, এরাদত বিশ্বাস টোলা, পাঁকাটোলা, ৭৬ বিঘী, বিশ্বনাথাপুর, চাঁদশিকারী সহ আরো কয়েকটি গ্রামের রাস্তায় একদম চলাচলে অনুপযোগী। যার ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসি। যেখানে খালি পায়ে তো হাটা যায় না, সেখানে অন্যান্য যানবহন কিভাবে চলাচল করবে এমন চিন্তায় পড়েছে এলাকাবাসি। এলাকাবাসির অভিযোগ আমাদের গ্রামে জমি আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। বিশেষ করে জমিনপুর, কিরণগঞ্জ গ্রামটি দেশের উত্তর-পশ্চিমের শেষ প্রান্তে হওয়ায় অনেকে ভয়-ভীতিতে জীবন-যাপন করছে। কারণ, গ্রামের পাশেই ভারতীয় কাটাতাঁরের বেড়া। বর্তমান সরকার যখন শি¶ার উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন সেখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায়  শি¶া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জমিনপুর গ্রামের অনেক ছেলে মেয়েরা। এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এই দুটি শি¶া প্রতিষ্ঠান থাকলেও উচ্চ শি¶ার আলো তেমন পড়েনি গ্রামটিতে। গ্রাম থেকে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ৬ কিলো মিটার দূরে হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে-ই ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। যাতায়াতের ব্যবস্থা বেহাল দশার কারণে-ই উচ্চ শিক্ষা অধ্যয়ন করার জন্য গ্রামের বাইরে বা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন সুযোগ পাচ্ছে না গ্রামের শিক্ষার্থীরা। এসব গ্রামের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা অনেক ইচ্ছে। কিন্তু আমাদের গ্রামের রাস্তার যে অবস্থা, তাতে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা থকমে দাঁড়াচ্ছে। আর কি ভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবো? আমাদের গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা সরকার যদি উন্নত করে দেয়, তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ উজ্জল হবে। এদিকে সাগর আহম্মেদ, মাসুদ রানা, আব্দুর রব সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমরা ছেলে হওয়ায় অনেক কষ্ট করে গ্রাম থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে স্কুল-কলেজে যায়। তাও আবার স্কুল-কলেজে যেতে যেতে কয়েকটি ক্লাস থেকেও বঞ্চিত হই। যার ফলে আমরা অধিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আর মেয়েদের বিষয়ে কি বলবো? আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থার জন্য রাস্তাগুলো যেনো ঠিক করে দেন। আমরা আর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। আমরা আমাদের বাবা-মায়ের ¯^প্নপূরণ করতে চাই। আমরা নিজেদের উচ্চ শিক্ষার ভান্ডারে পৌঁছাতে চাই। এব্যাপারে বিনোদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, এমনতেই খড়া মৌসুমে আমার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামেগুলোতে যাতায়াত করা কঠিন, তারপরও আষাঢ় মাসের বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির কারণে জমিনপুর, কিরণগঞ্জ, খোন্দা, এরাদত বিশ্বাস টোলা, পাঁকাটোলা, ৭৬ বিঘী, বিশ্বনাথাপুর, চাঁদশিকারী সহ আরো কয়েকটি গ্রামের রাস্তাগুলো একদম চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলো বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত গ্রামবাসি জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের যে বরাদ্দ তাতে রাস্তা উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তারপরও ইউনিয়নবাসির কথা চিন্তা করে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কয়েক জায়গায় ভরাট ও ইটেরগুড়ি ফেলে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নে যেসব গ্রামে এখনো রাস্তা তৈরি হয়নি, সে সব রাস্তা তৈরি করে দেয়ার জন্য বর্তমান এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও উর্ধোতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেছি। রাস্তা কখন হবে তা বলতে পারবো না। আমি ¯^াদ্ধমতো চেষ্টা করছি, যেনো ওই সব গ্রামগুলোর রাস্তা তৈরি করে সকল যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *