Sharing is caring!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন

বিএনপির নেতারা : তথ্যমন্ত্রী

♦ দর্পণ ডেস্ক

সরকারের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার কম। তারপরেও বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে কথা বলে মনে হয় তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই এখনো আশেপাশের দেশ ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার অনেক কম। কিন্তু রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপি নেতারা যেভাবে কথাবার্তা বলছে, তাতে মনে হয় তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিএনপিকে আশপাশের দেশসহ বিশ্বের দিকে তাকানোর অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে করোনা সংক্রমণের হার আমাদের চেয়ে বেশি। ভারতে সংক্রমণ চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। আর বেলজিয়ামে সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ১৫ শতাংশ, বৃটেনে ১৪, যুক্তরাষ্ট্রে ৬, ভারতে ৩ দশমিক ২, পাকিস্তানে ২ এর বেশি আর আমাদের দেশে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা যদি ভালো না হতো, তাহলে মৃত্যুহার ভারত-পাকিস্তানের মতো বা তার চেয়ে বেশি হতো। প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সংশ্লিষ্ট সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা মৃত্যুহার কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো মিথ্যাচার না করে জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান। আর আমাদের দুয়ার খোলা আছে। প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে আপনারা একযোগে জনগণকে সহায়তা করার জন্য কাজ করতে পারেন।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, যাদের প্রয়োজন সেইসব মানুষকে খুঁজে খুঁজে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। দাবি না থাকা সত্ত্বেও কওমী মাদ্রাসাগুলো সহায়তা পেয়েছে। ঈদের আগে সহায়তা পৌঁছেছে মসজিদগুলোতেও। সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহায়তা দিচ্ছেন। আমি বিএনপিকে একটু চক্ষু মেলিয়া আশপাশের দেশে কোথাও এমন ত্রাণ ও সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না দেখতে অনুরোধ জানাই।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় চীনের উহানে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে তখন যারাই এসেছেন, সবাইকে ‘হোম’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। দেশে আগত সব পণ্যবাহী জাহাজকে বহির্নোঙরে রেখে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই ভিড়তে দেয়া হয়েছে। স্থলবন্দরের জন্যও সে ব্যবস্থা ছিল। এরপরও ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশও নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে কোনো দেশই করোনা থেকে মুক্ত থাকেনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত সব শঙ্কা-আশঙ্কা মিথ্যে প্রমাণ করেছে। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন। সরকারের ব্যবস্থাপনায় ছয় কোটি মানুষ ত্রাণ ও আরো এক কোটি মানুষ নানা সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। যা অভাবনীয় এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দল তা করেনি। যে কারণে গত দুমাসের বেশি প্রায় সব কাজ বন্ধ থাকার পরও পরম সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ আর আমাদের চেষ্টায় একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *