Sharing is caring!

আহাদ আলী. নওগাঁ পতিসর থেকে \ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ্যাডঃ মোঃ আব্দুল হামিদ  বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর সময়ের কবি নন, তিনি ছিলেন সর্বকালের কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যকে পূর্নতা দিয়েছেন, দিয়েছেন বিশ^ সমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্মনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন দিকপাল ও উজ্জল নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্য সম্ভার একদিকে যেমন বিশাল তেমনই আপন মহিমায় তা বর্ণাঢ্য। তাঁর কালজয়ী লেখায় একদিকে বাংলাভাষা ও সাহিত্য যেমন শুদ্ধ হয়েছে তেমনই বিশ্ব সাহিত্যের অপরিহার্য উপাদানে পরিনত হয়েছে আপন বৈভব, আঙ্গিক, বহুমাত্রিকতা আর সার্বজনিনতায়। তিনি রোববার বিকেল ৩টায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁ’র পতিসরে কবির ১৫৬তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় কর্তৃক পতিসর কাচাড়ী বাড়ি সংলগ্ন দেবেন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জমান নুর এমপি। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক এমপি এবং মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইবাহীম হোসেন খান। অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ আলোচনা সভায় স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন। এসময় জাতীয় সংসদের হুইপ এ্যাড. শহিদুজ্জমান সরকার এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক এমপি, ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর উর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ সুবিধা বঞ্চিত বাঙালির প্রতি বিশ^াস স্থাপন করেছিলেন। তাদের কল্যান সাধনে ও সুশিক্ষিত করে তোলার জন্য লেখালেখির পাশাপাশি সমাজকর্মী ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি সংকীর্ন জাতীয়তাবাদ নয়, তিনি বাঙালীকে বিশ^বাদে দিক্ষা দিতে চেয়েছেন। দরিদ্র প্রজাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, সমবায়নীতি ও কল্যানবৃত্তি চালু করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, কবি ছিলেন দার্শনিক, সমাজ ভাবুক এবং পল্লী সংস্কারক। গ্রামকে অবজ্ঞা করে নগর নির্ভরতা, শিক্ষিত শ্রেণী-নির্ভরতা ‘ভদ্রলোকের ভারতবর্ষ’ গড়ার বিরোধী ছিলেন তিনি।  তিনি বলেন, আজও রবীন্দ্রনাথ আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনধারায় প্রত্যয়ে ও প্রত্যাশায় সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ¯^দেশপ্রেম, মানবতাবাদ, বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও বিশ^বোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর রচনাবলী এবং কর্মধারা নিঃসন্দেহে প্রেরনার অসীম উৎস। তাই রবীন্দ্রনাথের বিশালতা এবং তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব মাধুর্যকে অন্তরাত্মা দিয়ে উপলব্ধি করতে হলে রবীন্দ্র চর্চার কোন বিকল্প নাই। পরে দেবেন্দ্রমঞ্চে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমী, নওগাঁ জেলা শিল্পকলা একাডেমী, রানীনগর শিল্পকলা একাডেমী এবং আত্রাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবশেন করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *