Sharing is caring!

বেহাল দসা সোনামসজিদ-সালামপুর রাস্তার ॥ হাঁটু কাদা ॥ চরম দূর্ভোগে হাজারও গ্রামবাসী

♦ বিশেষ সংবাদদাতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উজেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান সোনামসজিদ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দর। ঐতিহাতিক দিক থেকে শিবগঞ্জে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।  এসব স্থানে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কোল ঘেঁষেই গ্রাম সালামপুর। সোনামসজিদ থেকে সালামপুর পর্যন্ত রাস্তাটি এখন কাঁচা রাস্তা। এই গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার লোকের বাস। একটু পানি হলেই এই রাস্তায় পানি জমে হাঁটু পরিমান কাঁদা হয়ে যায়। এই কাঁদা ভেঙ্গেই চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের চাকুরীজীবি, সাধারন মানুষদের। কেউ অসুস্থ হলেই বিপদ বাড়ে ওই পরিবারের। একজন অসুস্থ রোগীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যেন এক চরম ও মহা বিপদের কথা। ২ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে এই পানি কাঁদার মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। গরু-মহিষের গাড়ির প্রচলন তো প্রায় উঠেই যাচ্ছে। বর্ষায় এক হাঁটু কাঁদা মাড়িয়ে যাওয়ান মত একমাত্র যানবাহন গরু-মহিষের গাড়ি। সেটাও তো এখন অনেকটায় দূর্লব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু উপায় নেই জীবন থেমে থাকে না। থেমে থাকেনা প্রয়োজন। শত কষ্ট হলেও দূর্ভোগের মধ্যেই কাজ করছেন ওই গ্রাম ও পাশ^বর্তী এলাকার মানুষ। ওই রাস্তাটির অবস্থা এতই বেহাল যে, বর্ষায় এক হেঁটু কাঁদা আর শুস্ক মৌসুমে হাঁটু পরিমান ধুলা। বর্ষায় কাঁদা আর গ্রীষ্মে ধুলার সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করেই চলছে সালামপুর গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার। দীর্ঘদিন থেকেই এই অবস্থা চললেও কেই যেন দেখার নেই। নজর নেই ওই গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দূর্ভোগ নিরসনের। সমাজ সেবকদের প্রয়োজনে নানা আশ^াস দিলেও শেষ পর্যন্ত কোন কাজে আসেনি সেই সমাজ সেবকদের আশার বাণী। এ ব্যাপারে সালামপুর প্রামের প্রভাষক আবুল কালাম আজাদসহ গ্রামবাসীরা জানান, বর্তমান যুগে রাস্তাঘাটসহ অনেক কিছুর উন্নয়ন ঘটলেও আমাদের সালামপুর গ্রামের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। সামন্য বৃষ্টি হলেই আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একজন পর্যটক বলেন, ঐতিহাসিক সোনামসজিদের মত একটি জায়গায় রাস্তার এই বেহাল অবস্থা, যেন আলোর নিচে অন্ধকার। তাই জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন  রাস্তার সমস্যা আমার মাথায় আছে এবং চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। বরাদ্দ আসলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর সোনামসজিদ সালামপুরের রাস্তাটি পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারি এটি সরকারী রাস্তা নয়, ব্যক্তি মালিকানা যা ইতিমধ্যে রাস্তার নামে রেজিস্টি করা হয়েছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাজ করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে খুব শীঘ্রই রাস্তাটি পাকা করার ব্যবস্থা করবো। এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সালামপুর গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দূর্ভোগ নিরসনে এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই আশা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *