Sharing is caring!

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে কৃত্রিম সংকট ও জটিলতার কারণে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরা রবিবার থেকে ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজে বিঘœ ঘটার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সরেজমিন সোনামসজিদ স্থলবন্দর ঘুরে ও সোনামসজিদ আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের বৃহৎ দুটি প্রকল্প পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রফতানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের এক ধরনের জিম্মি করে অধিক মুনাফা আদায় করছে। ভারতীয় পাথর রফতানিকারকদের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে দেশী আমদানিকরকরা সংকটের সমাধান না পেয়ে রবিবার থেকে পাথর আমদানি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশীয় আমদানিকারকরা অভিযোগ করছেন, দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, পাথরবাহী ভারতীয় ট্রাককে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা এবং সেখানে নিম্নমানের পাথর মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টির মতো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে ভারতীয় রফতানিকারকরা। এ বিষয়ে আলমগীর মমিন, মামুন অর রশিদ, রাইহান আলী, আতাউর রহমান রাজুসহ কয়েকজন পাথর আমদানিকারক জানান, ফাইভ এইট পাথরের পূর্বে দাম ছিল সিএফটি প্রতি ৬১/৬২ টাকা, পরবর্তীতে চলতি মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪/৬৫ টাকা, আর বর্তমানে এ পাথরের দাম চাওয়া হচ্ছে ৬৮/৭০ টাকা করে। সে সাথে ভারতীয় পাথরবাহী ট্রাকে মহদীপুরে ডাম্পিং করে নিম্নমানের ধুলা মিশ্রিত পাথর মেশানো হচ্ছে। একই ভাবে সব ধরনের পাথরের দাম ভারতীয় রপ্তানীকারকরা বৃদ্ধি করায় এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এ সব আমদানীকারকরা। এতে একদিকে যেমন দেশী আমদানিকারকরা ¶তির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাথর সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সোনামসজিদস্থ আমদারীকারক এসোসিয়েশনের পাথর আমদানীকারক বিষয়ক সাব কমিটির আহবায়ক একরামুল হক জানান, ভারতে মূল্য বৃদ্ধির কারনে ব্যবসায় লাভ না হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার ভারতীয় রপ্তানীকারক মুন এন্টারপ্রাইজের সাহেব আলীকে পাথর না পাঠাতে অনুরোধ করে নিষেধ করে দিয়েছেন। একই ধরনের কাজ করেছেন সোনামসজিদ বন্দরে কর্মরত অধিকাংশ আমদানীকারকই। যা গত ৯ মার্চ এ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে বসে সিদ্ধান্ত হয়। তবে ভারতীয় রপ্তানীকারকদের চিঠির মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত না জানানো হলেও ব্যাক্তি উদ্যোগে শনিবার স¦ ¯^ ব্যবসায়ীরা ¯^ ¯^ রপ্তানীকরাকদের পাথর না পাঠাতে মোবাইল ফোনে নিষেধ করে দিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, কেউ অধিক মূল্যে পাথর আনলে এ্যাসোসিয়েশনের কোন বাধা নেই, ফলে বন্দরের কার্যক্রম ¯^াভাবিক থাকবে। এদিকে রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকায় কোন পাথরবাহী ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে প্রবেশ করেনি বলে জানায় পানামা পোর্ট লিঃ এর অপারেশন অফিসার মঈনুল ইসলাম। তিনি জানান, রবিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ২’শ বিভিন্ন পন্যের ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করলেও পাথরের কোন ট্রাক প্রবেশ করেনি। তিনি আও জানান, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতীয় পাথরবাহী ১’শ ৬০ টি ট্রাক প্রবেশ করেছিল। এর আগে গত বছর ভারতের রফতানিকারকরা রকম ভেদে যে পাথরের দাম নিত প্রতি সিএফটি ১৮-২২ রুপি, ২ মাস আগে তা নির্ধারণ করে ২৮-৩০ রুপি। পবের্তীতে ফেব্রæয়ারী মাসে প্রতি সিএফটির পাথরের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৬-৩৭ রুপী। আর এসব কারনে ভারতীয় রফতানিকারকদের খেয়াল খুশিমতো পাথরের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতীয় রপ্তানীকারকদের এর প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়ার পরও এর কোন উত্তর না আসায় সেসময় ৪ ফেব্রæয়ারী সোনামসজিদ আমদানিকারক গ্রæপের কার্যালয়ে পাথর আমদানীকারকদের আবারো এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারতের পক্ষ থেকে কোন রকম সহযোগীতা না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং সর্বসম্মতি ক্রমে গত ৩০/০১/২০১৬ইং তারিখের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬/০২/২০১৬ইং তারিখ শনিবার থেকে সকল পাথর আমদানীকারক সমসার সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার পাথর আমদানী থেকে লিখিতভাবে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন বলে জানান সোনামসজিদ আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব। তবে এবছর মৌখিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *